ফের বিজেপিতে ফিরছেন রূপাঞ্জনা?

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। পরে ঘাসফুল শিবিরে আসেন। রাজ্যের এই পালাবদল প্রসঙ্গে, সম্প্রতি 'অনেকদিন পর' ছবির প্রিমিয়ারে এসে কথা বললেন অভিনেত্রী। 

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পালাবদল প্রসঙ্গে রূপাঞ্জনা মিত্র বলেন, ‘আমরা সবাই কিন্তু রাজনৈতিক প্রাণী। আমরা কেউই রাজনীতি ছাড়া থাকতে পারব না। আমরা যে দেশে থাকি সেখানে সকলেই রাজনীতির বিষয়ে সচেতন। মানুষ অপেক্ষায় ছিল। অনেকদিন এক জায়গায় জলের গতি আটকে গেলে সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য অনেক মানুষের ইতিবাচক শক্তি খুব দরকার হয়। আমার মনে হয় যা হচ্ছে ভালর জন্যই হচ্ছে। আগামী দিনে যা হবে, সেটাও ভালর জন্যই হবে।’ 

তার আরও সংযোজন, ‘রেজিমেন্টেড পার্টিতে সবাই এক, যেটা এখন দেখা যাচ্ছে, সেটাই কিন্তু হয়। আমি ২০১৯ এ বিজেপি জয়েন করেছিলাম। তখন দল এভাবে কাজ করেনি। করলে ২০২১ এই ক্ষমতায় আসতে পারত।’ 

তিনি কি এখন আবার বিজেপিতে ফিরবেন? এমন জল্পনা বাড়ছে ক্রমাগত। সেই বিষয়ে অভিনেত্রীর স্পষ্ট জবাব, ‘২০১৯ সালে আমি রাজধানীতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। তার কারণ ছিল। যে ব্যান কালচার নিয়ে সকলে এখন এত সরব, এটা ২০১৯ এও ছিল। যারা বিরোধী রাজনীতি করে, তাদেরই সেই খেসারত দিতে হয়। সুতরাং বিরোধী রাজনীতি করা অতটা সহজ নয়।  মনুষকে উপকার করার জন্য কোনও ট্যাগের প্রয়োজন নেই।’ 

 রূপাঞ্জনা পদ্মশিবিরে কামব্যাক জল্পনা নিয়ে আরও বলেন, ‘সেটা এখন বলা কি ঠিক। একটা ছবি দেখতে এসেছি। সব কিছু অত সহজ বলে আমার মনে হয় না। সবটা সময়ের হাতে। আর রাজনীতিতে যদি মানুষের সেবা করার জন্য আসেন,... দেখুন সামনের বছর কর্পোরেশন ইলেকশন, মিউনিসিপ্যালিটি কর্পোরেশনগুলোর কী অবস্থা? ৫০ বছরের একটা উই খাওয়া স্ট্রাকচার। সেটাকে ঠিক করতে হলে সব স্তর থেকেই সাফাই অভিযান বা স্বচ্ছ ভারত অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। ৪ তারিখের পর থেকে মিনিটে মিনিটে সব কিছু বদলাচ্ছে। মানুষের সামনে আসার প্রয়োজনটা দরকার, যখন তাদের টাকা নিয়ে সবটা করা। সত্যটা সামনে আসা এবং স্বচ্ছতা থাকা উচিত। লোভটাকে সংযত করে যদি রাজনীতি করা যায় তাহলে তার থেকে ভাল কিছু নেই।’ 

রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে তার সংযোজন, ‘রাজনীতিতে বয়স একটা জরুরি বিষয়, পিছুটানটাও ম্যাটার করে।  আর সব কিছু একসঙ্গে করা যায় না, রাজনীতি করলে রাজনীতি করতে হয়। কারণ এটা সমাজসেবার কাজ, ওটার জন্য একটা আলাদা মন, মনন দরকার হয়। আর যারা দুটো ব্যালেন্স করে চলতে পারেন, সেটা আলাদা ব্যাপার। এর বেশি আর কিছু বলার নেই।’