প্রতিবাদে ছেলেদের হলে গিয়ে খেলা দেখলেন নারী শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে এসে এক সাবেক শিক্ষার্থী হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে দল বেঁধে ছাত্রদের ওই আবাসিক হলে খেলা দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার সকালে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার বিশ্বকাপের ম্যাচ উপলক্ষে শহীদুল্লাহ্ হল মাঠে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেন তারা। এদিকে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের নিরাপত্তার শঙ্কা জানিয়ে প্রভোস্ট ও প্রক্টর বরাবর আবেদন করেছেন অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ্ হল সংসদ নেতা। 

জানা যায়, শুক্রবার রাতে ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ দেখতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সাবেক শিক্ষার্থী। সেখানে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজুর হাতে স্ত্রীসহ তিনি হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত সাজু ছাত্রশিবিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনার প্রতিবাদে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রী নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী গতকাল রবিবার শহীদুল্লাহ হল মাঠে একসঙ্গে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ দেখেন নারী শিক্ষার্থীরা। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর নারীবান্ধব নেই। নারীদের বিচরণ ও চলাফেরাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য এবং তাদের অংশগ্রহণ সংকুচিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন পাঁয়তারা করছে।’

নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ হল সংসদ নেতার : এদিকে নারী হেনস্তার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়াকে মারধরের হুমকি ও গভীর রাতে তার কক্ষে গিয়ে খোঁজাখুঁজির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গতকাল হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর বরাবর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন তিনি। আবেদনে সাজু মিয়া উল্লেখ করেন, শনিবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. জুনায়েদ আবরারের নেতৃত্বে প্রায় ৯ জন তার কক্ষের সামনে এসে নাম ধরে ডাকাডাকি করেন। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এর আগে সারা দিন ফেসবুকে তাকে নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালানো হয়, যা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবেদনে তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ পাঁচ দাবি জানান। অভিযোগ অস্বীকার করে সাজু মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো কথাই হয়নি, নারী হেনস্তার প্রশ্নই আসে না।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ওবায়েদ হক হাসিব বলেন, সমাজসেবা সম্পাদকের সঙ্গে ওই নারীর কোনো কথা হয়নি। এদিকে দেশ রূপান্তরের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শনিবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব জুনায়েদ আবরারের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মী সাজু মিয়াকে খুঁজতে তার কক্ষের সামনে যান। এ সময় তারা তাকে ডাকাডাকি করেন। তাকে না পেয়ে আশপাশের কক্ষে তার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। পরে রাত ১টা ৪৭ মিনিটে তারা সেখান থেকে চলে যান। এ সময় জুনায়েদ আবরারের সঙ্গে ছিলেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাশরাফি ইয়াবিন সজীব, যুগ্ম-আহ্বায়ক আতিক মুসাদ্দিক জিহাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক সিয়ামউদ্দৌলা সিয়াম, সদস্য সিফাত খান, সদস্য কামরুজ্জামান কনিক, সদস্য নুর মোহাম্মদ ও কর্মী তামিম মাহমুদ।