চাঁদপুরের মতলব উত্তরের খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রির সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের সেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। উপরন্তু তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগী চাষিদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে সরকারি এই খাদ্য গুদামে কোনোভাবেই ধান জমা নিচ্ছে না। শুধু ঘুষের হয়রানিই নয়, ঘটছে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনাও। লটারিতে নাম ওঠা অনেক সাধারণ কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তাদের অজান্তেই ধান বিক্রি দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়েছে একটি চক্র।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক তানভীর হোসেন জানান, ঘুষের টাকা না দিলে সরকারি খাদ্য গুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তার কাছ থেকে শ্রমিক মজুরি, অফিস খরচ ও বিভিন্ন খরচের কথা বলে খাদ্য গুদামের অফিস সহকারী সাদ্দাম হোসেন ৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের কৃষক হাফেজ বিল্লাল হোসেন জানান, ধান বিক্রি করতে এসে অফিস খরচ বাবদ তাকে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, উপজেলার কৃষকরা কষ্ট করে ধান উৎপন্ন করেন। ভাগ্যগুণে লটারিতেও নাম ওঠে। কিন্তু, সেই ভাগ্য নিয়েও ছিনিমিনি চলে খাদ্য গুদামে। ‘ঘুষের টাকা না দিলে লটারিতে পাওয়া ভাগ্যের হিসাবও বদলে যায় সরকারি খাদ্য গুদামে। হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হয় গুদাম কর্মকর্তাকে। তিনি জানান, অফিস খরচ বাবদ তাকেও ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ মোল্লা জানান, তিনি জানেন না কে তার আইডি কার্ড ব্যবহার করে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করেছে।
মতলব উত্তরের খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, যে টাকাটা নেওয়া হয়েছে সেটা সরকারের ভ্যাট আইটি ও লেবার খরচ। এক্ষেত্রে অফিস সহকারী যদি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, অনিয়মের বিষয়ে তিনি অবগত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, লটারি বিষয়টা হচ্ছে সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক। এখানে প্রশাসনের কিছু করার আছে কি না খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ উঠেছে সত্যতা প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০৯ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয়ের অভিযানের আওতায় ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৯২৩ টন ধান এবং ৩৮ টন চাল সংগ্রহ করা হবে।