ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ছবি প্রকাশ করেছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত শুক্রবার রাতে ইতালির স্থানীয় সময় প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। রোমে বসবাসরত নিহতদের নিকটাত্মীয় হোসনেয়ারা বেগম এ তথ্য জানান। নিহতরা হলেনÑ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু ও ৫ বছর বয়সী মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। এ ঘটনায় কামাল উদ্দিনের ছেলে আমির হোসেন অয়ন গুরুতর আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে। ইতালি প্রবাসীদের একাধিক সূত্র ও নিহত কামালের গ্রামের বাড়ির লোকজন জানান, গত শুক্রবার রাতে কামাল তার রোমের বাসায় স্ত্রী আরজুর প্রেমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রেমিক শাহাদাতের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় কামালের দুই সন্তানও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে শাহাদাত ছুরিকাঘাত করে প্রেমিকা আরজু, তার স্বামী কামাল উদ্দিন বাবুল ও মেয়ে আরিশাকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করেন। কামালের ছেলে অয়ন আহত হলেও পালিয়ে জীবন রক্ষা পান।
এদিকে এ ঘটনায় শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন উল্লেখ করে গত শনিবার তার ছবি প্রকাশ করে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলা হয়Ñ ‘ছবির ব্যক্তি রোমে ট্রিপল মার্ডারের রচয়িতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। লোকটি শাহাদাত হোসেন নামে পরিচিত। তার জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ মে বাংলাদেশে। তার সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমকে জানাতে পারেন।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, ‘শাহাদাত হোসেন ৪ বছর আগে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর থেকে দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ তবে শাহাদাতের পদত্যাগ বা পদ থেকে অব্যাহতির লিখিত কিছু তিনি দেখাতে পারেননি।
শাহাদাতের বড় ভাই সৌদিপ্রবাসী ইসমাইল হোসেন হারুন জানান, ৪ বছর আগে বাড়ির সব সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর থেকে শাহাদাতের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।