রাজধানীতে পুলিশকর্তার স্ত্রীসহ দুই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ দুই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সকালে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নিলুফার ইয়াসমিন (২৯) ও গত শনিবার রাত ৩টার দিকে ডেমরা বাঁশেরপুল এলাকার বাসা থেকে নাসরিন আক্তার (২৬) নামে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিলুফার কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। তিনি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিক্রবিল গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী আনোয়ার হোসেন বর্তমানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে এসআই হিসেবে কর্মরত রয়েছে।

সবুজবাগ থানার এসআই ফাতেমা জানান, ১৪ বছর আগে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিলুফারের বিয়ে হয়। তাদের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে ও সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ মসজিদের বিপরীতে একটি বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে সন্তানদের নিয়ে ভাড়া থাকতেন নিলুফার। বড় ছেলে আরাফাত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সে মাদ্রাসায় পড়াশোনা ঠিকমতো করত না। এ ছাড়া আর্থিক টানাপড়েনসহ পারিবারিক বিভিন্ন কারণে নিলুফা দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। খবর পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ জানা যাবে। ঘটনার বিষয়ে সবুজবাগ থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। স্বামী আনোয়ার হোসেন জানান, তার স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সহজেই মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়তেন। বিশেষ করে ছেলের পড়াশোনা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

এদিকে ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শায়খ খসরু জানান, খবর পেয়ে শনিবার  রাত ৩টার দিকে ডেমরা বাঁশেরপুলে নতুনপাড়ার বাসার দোতলা থেকে নাসরিন আক্তারের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহ শোয়া অবস্থায় ছিল। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন করে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এসআই আরও জানান, নাসরিন আক্তার বাঁশেরপুলের ওই বাসায় প্রাইভেটকার চালক স্বামী পলাশের সঙ্গে থাকতেন। রাতে ঘরের জানালার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁসি দেন নাসরিন। দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা নিজেরাই মরদেহ নামিয়ে নিচে রাখেন। এরপর থানায় খবর দেন। অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া স্বামী পলাশকে থানায় এনে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

নাসরিন আক্তারের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার রাজাপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম ইকবাল হোসেন।