জোড়া কবরে শায়িত হলেন ফুলগাজীর মা-মেয়ে

ফেনীর ফুলগাজীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা জাকিয়া আক্তার (৩৮) ও মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০) পাশাপাশি জোড়া কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। 

সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৪টায় উত্তর আনন্দপুর ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২টি খাটে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মজুমদারপাড়া পারিবারিক কবরস্থানে। সেখানে মা-মেয়েকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি বাড়ি থেকে জানাজার উদ্দেশ্যে রওনা হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ক্যান্সারে আক্রান্ত এক ননদকে দেখতে গিয়ে গত শনিবার রাতে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান জাকিয়া আক্তার ও তার মেয়ে জুহা। একই দুর্ঘটনায় আরও একজন নিহত এবং দুইজন আহত হন।

দুর্ঘটনার পর প্রায় ১০ ঘণ্টা পর মা-মেয়ের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। পরে প্রবাসে থাকা স্বজনদের অপেক্ষায় মরদেহ ২টি ফ্রিজিং ভ্যানে সংরক্ষণ করা হয়। সৌদি আরব প্রবাসী নূরের সফা মজুমদার সোহেল এবং ইতালিপ্রবাসী কাজী আজাদ হোসেন দেশে ফিরে শেষবারের মতো প্রিয়জনদের মুখ দেখে জানাজায় অংশ নেন।

স্বজনরা জানান, একটি সুখী পরিবার মুহূর্তের মধ্যে শোকের সাগরে ভেসে গেছে। মাত্র আট মাস আগে বিয়ে হয়েছিল জুহার। নতুন সংসারের স্বপ্ন নিয়েই পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে যায় তার জীবন প্রদীপ।

অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রবাসজীবন কাটানো নূরের সফা মজুমদার সোহেলের জন্য ২৭ জুন দিনটি যেন এক বেদনাময় স্মৃতি হয়ে আছে। ঠিক ১৪ বছর আগে একই দিনে তিনি হারিয়েছিলেন তার মাকে। এবার সেই একই তারিখে হারালেন স্ত্রী জাকিয়া আক্তার ও বড় মেয়ে জুহাকে। একদিনে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুইজনকে হারিয়ে তিনি এখন শোকস্তব্ধ।

এলাকাবাসী ও স্বজনদের মতে, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।