শক্তিশালী অর্থনীতি গড়তে গভীর পুঁজিবাজারের ওপর জোর গভর্নরের

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসরকারি খাতের ঋণ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি পর্যায়ক্রমে ১০ শতাংশে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী, গভীর ও গতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন গভর্নর। সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে গভর্নর বলেন, পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়লে উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইকুইটি অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এতে ব্যাংকঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন চাহিদা পূরণে কার্যকর বিকল্প উৎস তৈরি হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো সম্ভব হলে পরবর্তী বছরগুলোতেও এ ধারা বজায় থাকবে। এর ফলে পুঁজিবাজার বেসরকারি খাতের অর্থায়নের একটি শক্তিশালী উৎসে পরিণত হবে, ব্যাংকঋণের ওপর চাপ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

বৈঠকে গভর্নর বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও সিকিউরিটিজ বিক্রির অর্থ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এফইআইডি সার্কুলার নং ০২ (২০ মে ২০২৬)-এর মাধ্যমে নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট (নিটা) সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শেয়ার বিক্রির অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নিটা হিসাবে জমা হবে এবং অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক মূলধনী মুনাফা কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

সিএসই প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, মহাব্যবস্থাপক মোর্তূজা আলম এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুল হক।