যুদ্ধে কৌশলগত অগ্রগতির দাবি মস্কোর

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে বড় অগ্রগতির দাবি করেছে করেছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত শহর কোস্তিয়ানতিনিভকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী। দীর্ঘ দিন ধরেই ক্রেমলিনের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের তথাকথিত ‘ফর্ট্রসে বেল্ট’ বা দুর্গ-প্রতিরক্ষা বলয় দখল করা। এই বলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ কোস্তিয়ানতিনিভকা। দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ইউক্রেনীয় প্রচেষ্টায় যে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা রেখা গঠিত হয়েছে, সেই চারটি মূল বসতির মধ্যে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থান কোস্তিয়ানতিনিভকা’র। যদিও ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টের অন্য অংশগুলোয় রাশিয়ার অগ্রগতি অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে, তবে কোস্তিয়ানতিনিভকা ঘিরে পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।

ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের ভাষ্য, ছোট ছোট রুশ সেনাদল শহরের উপকণ্ঠে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে। এতে সামনে কাছাকাছি দূরত্বে সরাসরি সংঘর্ষ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোস্তিয়ানতিনিভকার দিকে রাশিয়ার এই চাপ মস্কোর দীর্ঘস্থায়ী জনবল সুবিধার প্রতিফলন। যদিও ইউক্রেন মাঝারি পাল্লার ড্রোন হামলার মাধ্যমে রুশ সরবরাহব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তবু তা এখনো রাশিয়ার আক্রমণ থামিয়ে দেওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফিনল্যান্ডভিত্তিক সংঘাত বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক বার্ডের বিশ্লেষক এমিল কাস্তেহেলমি বলেন, ইউক্রেনের মাঝারি পাল্লার হামলার প্রভাব এতটা শক্তিশালী হয়নি যে রাশিয়াকে তাদের আক্রমণাত্মক অভিযান স্থগিত করতে হবে। তার মতে, পেছনের এলাকায় বাড়তি ক্ষতি সত্ত্বেও রাশিয়া এখনো অন্তত কিছু সেক্টরে অভিযান চালিয়ে যেতে পারছে।

সামরিকভাবে কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করতে পারলে রুশ বাহিনী উত্তরমুখী অগ্রযাত্রার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি পাবে। বর্তমানে এই অক্ষই রুশ অভিযানের কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে শহরটি দখলের পথ সহজ নয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, পোকরোভস্ক ও আভদিভকার মতো দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল অবরোধ যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সম্প্রতি বলেছেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল মস্কোর নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অঞ্চলটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন  ইউক্রেনের চার অঞ্চল দখলের আগে থামবে না রাশিয়া। স্থানীয় সময় গত রবিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত। মস্কো আরও চারটি ইউক্রেনীয় অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য থেকে সরবে না। একই সঙ্গে সংঘাত কমাতে ইউক্রেনের দেওয়া নতুন প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তার দাবি,  ইউক্রেন যে দূরপাল্লার হামলা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি

প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর চাপ কমানোর একটি কৌশল। পুতিন বলেন, এই প্রস্তাব কেন দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট। কারণ ইউক্রেনের গভীরে আমাদের পাল্টা হামলাগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী, বেশি কার্যকর এবং সত্যি বলতে আরও বেশি ধ্বংসাত্মক। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে ভয়াবহ জনবল সংকটে রয়েছে এবং তারা হয়তো মনে করছে, এই উদ্যোগ তাদের জন্য একটি রক্ষাকবচ হতে পারে। তবে কিয়েভ সরকারকে রক্ষা করা রাশিয়ার পরিকল্পনার অংশ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুতিনের এসব বক্তব্যের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পুতিন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সম্ভাব্য যেকোনো শান্তিচুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে দনবাসের দোনেৎস্ক অঞ্চলে অবশিষ্ট অবস্থান ছেড়ে দিতে হবে।