হালান্ডকে রুখতে হাতিদের প্রাচীর

টেক্সাসের আর্লিংটনে আজ এমন এক ফুটবল যুদ্ধ অপেক্ষা করছে, যার কোনো অতীত ইতিহাস নেই। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে মাত্র দুই ধাপের ব্যবধানে থাকা নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট এর আগে কখনো সবুজ ঘাসে মুখোমুখি হয়নি। নকআউট পর্বের দুই দলের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের মূল আকর্ষণ অবশ্যই নরওয়ের বিধ্বংসী গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড, যাকে রুখতে অবশ্য প্রস্তুত ওসমানে দিওমান্দেদের আইভরিয়ান রক্ষণভাগ। তবে এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের রোমাঞ্চ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে আরবি লাইপজিগের দুই ক্লাব সতীর্থের মুখোমুখি অবস্থান। একদিকে বুন্দেসলিগায় সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে ‘রুকি অব দ্য সিজন’ হওয়া আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক দিওমান্দে, আর অন্যদিকে ‘নরওয়েজিয়ান নেইমার’ খ্যাত আন্তোনিও নুসা। ক্লাব ফুটবলের চেনা বন্ধুদের এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধই আজ টেক্সাসের তীব্র গরমে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।

এই দুই দলের নকআউটে পৌঁছানোর গল্পটাও বেশ রোমাঞ্চকর। আইভরি কোস্ট নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে পা রেখেছে নিজেদের জাত চিনিয়ে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর জার্মানির কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল তারা। তবে শেষ ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে মাস্ট-উইন সমীকরণে দাঁড়িয়ে নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ‘দ্য এলিফ্যান্টস’রা। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই প্রথমে গোল করার এক অনন্য কীর্তি গড়েছে এমার্স ফায়ের এই লড়াকু দল।

এদিকে নরওয়ের নকআউটের পথের শুরুটা ছিল গোলবন্যায় ভাসানো। ইরাক ও সেনেগালকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার পর শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে হারে তারা। তবে সেই ম্যাচেই কোচ স্টালে সোলবাকেন এক বড় কৌশল খাটান। নকআউট আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় তিনি হালান্ড, ওডেগার্ড ও নুসার মতো মূল একাদশের ১০ জন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেন। আইভরি কোস্টের চেয়ে এক দিন কম বিশ্রাম পাওয়ার ক্লান্তি দূর করতেই নরওয়েজিয়ান কোচ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার ফলে আজ সম্পূর্ণ তরতাজা নরওয়েকে মাঠে দেখা যাবে। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ৪ গোল করা হালান্ড আজ গোলক্ষুধা নিয়েই মাঠে নামবেন।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আইভরি কোস্টের শক্তিকে সমীহ করে নরওয়ের কোচ সোলবাকেন বলেন, ‘তাদের মাঝমাঠের তিনে একজন প্লে-মেকার, একজন রানার এবং একজন স্ট্যাবিলাইজারের খুব ভালো মিশ্রণ আছে। তাদের দুজন ভালো উইঙ্গার এবং সেন্টার ব্যাকে দুজন দারুণ শক্তিশালী ফুটবলার আছে। তবে তারা তাদের সেরাটা খেললে যেকোনো দলকে হারাতে পারেন।’

নরওয়ে কোচের এমন সতর্ক অবস্থানই বলে দিচ্ছে, আজ মাঠে হালান্ডকে থামাতে যেমন ব্যস্ত থাকতে হবে আইভরিয়ান ডিফেন্ডারদের, ঠিক তেমনি বড় পরীক্ষা দিতে হবে নরওয়ের রক্ষণভাগকেও। কারণ ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে হালান্ডের যে পাওয়ার ফুটবল দেখার জন্য ডাচ সমর্থকরা যখন মুখিয়ে আছেন, তখন তাদের মাঠেই জবাব দিতে আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগে গতি আর চতুরতার ঝড় তুলতে প্রস্তুত দিয়ালো-দিওমান্দেরা। লাইপজিগ সতীর্থদের এই মাঠের দ্বৈরথ আর টেক্সাসের তীব্র গরম ছাপিয়ে শেষ ১৬-তে গিয়ে কে ব্রাজিল বা জাপানের মুখোমুখি হবে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন ফুটবল বিশ্ব।