হারারে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে গতকাল যখন বাংলাদেশি পেসারদের চাপে রাখেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা, তখন একই শহরে ফুরফুরে মেজাজে অনুশীলনে ব্যস্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়ানডে সিরিজের জন্য নিজেকে ঝালিয়ে নেন এ অফ স্পিনার। জিম্বাবুয়ে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হওয়ায় এ টেস্টে তাকে দলে রাখেননি সফরকারীরা। দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, তার সঙ্গে আলোচনা করেই নাঈম হাসানকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু কোথায় নাঈম? মিরাজ নেই, তবু এ টেস্টেরও একাদশে জায়গা হয়নি এ অফ স্পিনারের। প্রথম দিনে স্বাগতিক পেসাররা দাপট দেখান। বাংলাদেশের ১০ উইকেটের সব চারজন মিলেমিশে শিকার করেন। তবে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন তাইজুল ইসলাম। একাই লড়াই করা এ বাঁহাতি স্পিনার ৭ উইকেট পান। টেস্টে এ নিয়ে ১৯তম ৫ উইকেট বা এরও বেশি শিকার ধরলেন তিনি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ বার এ কীর্তি আছে সাকিব আল হাসানের। গতকাল এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তাইজুল।
এ বাঁহাতি ঘূর্ণি বোলার এক প্রান্তে চাপ তৈরি করলেও অন্য প্রান্তে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার না থাকায় সুবিধা নেয় জিম্বাবুয়ে। নাজমুল হোসেন শান্তদের ১৪০ রানে অলআউট করার পর প্রথম দিনে তারা তোলে ১৩৬ রান। গতকাল দ্বিতীয় দিনে ৯ উইকেটে আরও ২৬৬ রান যোগ করেন স্বাগতিকরা। সব মিলিয়ে ৪১০ রানে অলআউট হয়ে ২৭০ রানের লিড পায় দলটি। পরে ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলাম ৯ রানে আউট হন। দিনশেষে এই ১ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা ৪০ রান তুলেছেন। এখনো পিছিয়ে আছে ২৩০ রানে। ১৮ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে মাহমুদুল হাসান জয় ২১ ও মুমিনুল হক ৯ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন।
এর আগে ইনোসেন্ট কাইয়া ৭৬ ও ব্রেন্ডন টেইলর ১৭ রানে দ্বিতীয় দিন শুরু করেন। তবে কোনো রান যোগ না করেই খালেদ আহমেদের বলে আউট হন টেইলর। এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেটকে নিয়ে বাংলাদেশি বোলারদের শাসন করা কাইয়া তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। তবে তাইজুলের বলে ৫৯ রানে আউট হন বেনেট। ভাঙে ১০৭ রানের জুটি। কিছুক্ষণ পর কাইয়াকেও একই পথে ফেরান এ বাঁহাতি স্পিনার। জিম্বাবুয়ের ওপেনার খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ১৪০ রানের ইনিংস। নতুন ব্যাটার টাফাডজাওয়া সিগা দ্রুত রান আউট হলে খেলায় ফেরেন সফরকারীরা।
তবে এই চাপ ধরে রাখতে পারেননি সফরকারী বোলাররা। ২৮০ রানে ৫ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা আবার বড় জুটিতে রান পাহাড়ের দিকে ছোটে। ষষ্ঠ উইকেটে ক্রেইগ আরভিন ও ওয়েসলি মাধাভেরে যোগ করেন ১০২ রান। দুজনেই ফিফটি তুলে নেন। ৬০ রানে আউট হওয়া আরভিন ১৬ ইনিংস পর অর্ধশতকের দেখা পান। মাধাভেরে অপরাজিত থাকেন ৭৭ রানে।
এর মাঝে ব্র্যাড ইভান্স ও নিউম্যান নিয়ামুরিকে আউট করে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তাইজুল। এতে সাকিবের পাশে নাম লেখান তিনি। তবে এখানেই থামেননি এ বাঁহাতি স্পিনার। পরে ফেরান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক রিচার্ড এনগারভা ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে। একাই ৪০ ওভার ২ বল হাত ঘুরিয়ে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নেন তাইজুল। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তার এমন ক্ষুরধার বোলিংয়ের পরও পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ঘুরে দাঁড়াতে আজ ব্যাটারদের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সফরকারীরা।