মুক্তির এক বছর আগেই  নানান বিতর্কে অজয়ের ‘চৌহান’

বলিউড তারকা অজয় দেবগন বর্তমানে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি জুন এবং আগামী জুলাই মাসে মুক্তি পাচ্ছে তার একধিক সিনেমা। তবে আলোচনায় এসেছে ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘চৌহান’। মুক্তির একবছরেরও বেশি সময় আগেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে নীরজ যাদব পরিচালিত চলচ্চিত্রটি। 

এবার ছবিটির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাজপুত ইতিহাস ও পরিচয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে ক্ষত্রিয় পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, একটি ঐতিহাসিক রাজপুত বংশের পরিচয় বহন করে ‘চৌহান’। সেই পরিচয়কে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বয়ানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ক্ষত্রিয় পরিষদ উল্লেখ করেছে, চৌহান বংশ ভারতের ইতিহাসের অংশ। এটি রাজনৈতিক প্রচার বা কৃত্রিম বিতর্ক তৈরির উপকরণ নয়। 

সংগঠনটির অভিযোগ, রাজপুতদের সম্মতি বা অংশগ্রহণ ছাড়াই বারবার তাদের পরিচয় রাজনৈতিক আখ্যানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসম্মানজনক। ক্ষত্রিয় পরিষদের ভাষ্য, মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও জনপরিসরে রাজপুত সমাজের কণ্ঠস্বর পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত হয় না। এমন পরিস্থিতিতে শুধু বিতর্ক সৃষ্টি, জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক আবেগ উসকে দেওয়া বা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজপুত বংশের নাম ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ভারতের ইতিহাসকে কেবল হিন্দু ও মুসলমানদের দ্বন্দ্বের সরলীকৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করা ইতিহাসের প্রতি অবিচার। এ দাবির পক্ষে কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তারা। যেমন: মধ্যযুগে রাজপুত ও আফগান শাসকদের মধ্যে একাধিকবার গড়ে উঠেছিল সামরিক জোট। খানওয়ার যুদ্ধে মহারানা সাঙ্গার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছিলেন মুহাম্মদ লোদি। হালদিঘাটের যুদ্ধে সুর মহারানা প্রতাপের বাহিনীর অন্যতম সেনানায়ক ছিলেন হাকিম খান। পাশাপাশি ফরিদ খানের প্রাথমিক সামরিক জীবন এবং প্রথম পানিপথের যুদ্ধে মহারাজা বিক্রমাদিত্য তোমরের লোদি বাহিনীর পক্ষে লড়াইয়ের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। 

সংগঠনটির মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে সে সময়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং রাষ্ট্রনীতি, আনুগত্য ও সামরিক কৌশলের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাই বর্তমানের রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত উদ্দেশ্যে ইতিহাস বিকৃত করার সব ধরনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে তারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভরভাবে ইতিহাস উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। 

এর আগে ছবিটির টিজার প্রকাশের পর পরই সমালোচনার মুখে পড়ে এটি। কাশ্মীর সংঘাতের উপস্থাপন এবং  ছররা বন্দুকের প্রভাব নিয়ে একটি সংলাপ জন্ম দেয় বিতর্কের। সেখানে  ছররা বন্দুকের ক্ষয়ক্ষতিকে ‘সীমিত’ বলে উল্লেখ করায় অনেকেই অভিযোগ করেন, এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে খাটো করে দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে অজয় দেবগনের মুখে উচ্চারিত একটি সংলাপকে ঘিরে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘পাঠানদের বলে দাও, চৌহান আসছে।’ সমালোচকদের একাংশের দাবি, এ সংলাপ মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে দেয় নেতিবাচক বার্তা এবং উসকে দিতে পারে সাম্প্রদায়িক বিভাজন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করও। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ছররা বন্দুক কোনোভাবেই ‘সীমিত ক্ষতির’ অস্ত্র নয়। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, মূলধারার কাশ্মীরিদের সবাইকে ‘পাঠান’ হিসেবে উপস্থাপন করাও তথ্যগতভাবে ভুল। তার মতে, এ ধরনের সংলাপ লেখার আগে আরও গবেষণা করা উচিত ছিল।