গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পূর্বের জের ধরে বিএনপি-জায়ামাত দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর সাধারণ মানুষের অন্তত ১০টি দোকানের মালামাল লুটপাটের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনার পর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকালে পলাশবাড়ী সদরের চৌমাথায় এলাকায় সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি-জায়ামাত।
একই স্থানে দুই দলের ডাকা সমাবেশে আইনশৃঙ্খলার অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাবের আহমেদ এই আদেশ জারি করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পলাশবাড়ী সদর শহরের চারমাথা হতে ৫০০ মিটার এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, কোন ধরণের অস্ত্র, লাঠি বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন, শ্লোগান বা মিছিল, শব্দ যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা হলো। এরআগে গতকাল সোমবার (২৯ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১ ঘন্টা যান চালাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয়রা জানায়, পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ ওরফে মারো সামাদের লোকজন বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পুর্বের জের ধরে মারধর করে। এনিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে বাজারে জড়ো হতে থাকে। সন্ধার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন এবং জায়ামাত শিবিরের অন্তত ১৫জন নেতাকর্মী আহত হন। এরমধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ ওরফে মারো সামাদকে আহত অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীদের দাবি, সংঘর্ষের সময় জুনদহ বাজারে ১০টি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ক্ষতিপুরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে পলাশবাড়ী সদরের চৌমাথায় একই স্থানে দুটি বিএনপি-জামায়াত সমাবেশের ডাক দেয়।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারী আলম জানান, রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশঙ্খলা বানিহীর সদস্যরা রয়েছে।