প্যারেন্টিং সূত্র

শিশু কী শিখবে, কেন শিখবে

সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে আমরা যদি শিশুদের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে পারি, তাহলে তাদের চিন্তা-চেতনার মধ্যে পরিবর্তন আসবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুরা কী শিখবে এবং কেন শিখবে জানালেন ফারাহ বিলকিস

একজন শিশুর আট ধরনের চাহিদা থাকে। আমাদের একাডেমিক পড়াশোনা থেকে তার দু-একটি চাহিদা পূরণ হয়। আমাদের দেশের স্কুলে শিশুদের শিক্ষা-পদ্ধতি বেশি একাডেমিক। একাডেমিক বহির্ভূত কার্যাবলি স্কুলগুলোতে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। কারণ সবাই ব্যস্ত একাডেমিক ফল নিয়ে। অথচ একজন শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি গান, নাচ, ছবি আঁকা, খেলাধুলার মতো বিষয়গুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠলে শিশুর চিন্তাচেতনার পরিবর্তন ঘটে। একজন মানবিক সৃজনশীল মানুষ হয়ে ওঠে।

নাচ একটি বহুমাত্রিক শিল্পচর্চা। এখানে শরীরের চর্চা হচ্ছে, মস্তিষ্কের চর্চা হয়। আমাদের মাথার যে নিউরোসেন্সগুলো অকেজো হয়ে থাকে, নাচের মাধ্যমে সেগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেগুলো শিশুদের অঙ্ক ও বিজ্ঞানে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। এটাকে বলা হয় নিউরো জেনেসিস থ্রু দ্য আর্টস। এটা বাচ্চার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বাচ্চারা নাচ করার পর তার শারীরিক শক্তি ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

শিশুর  হাতে একটি পেন্সিল দিলে সে আঁকিবুঁকি শুরু করে। আর আঁকিবুঁকির মাধ্যমে হাতে ভারসাম্য তৈরি হয়। একটা সময় সে নানা বিষয়ের ছবিও এঁকে ফেলে। এটা তার সহজাত কাজ। এভাবে শিশুরা শিখে থাকে। নানা রকমের রঙ চিনবে। কোথায় কোন রঙের ব্যবহার করতে হয় তা জানবে। এর ফলে তাদের যোগাযোগ , সিদ্ধান্ত নেওয়া ও জীবনকে উপলব্ধি করার দক্ষতা বাড়াতে হবে।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন হয়। চাই উন্মুক্ত জায়গা ও খেলার মাঠ। একটি শিশু মাঠে খেলাধুলা করলে তার শারীরিক বিকাশ ঘটে। একই সঙ্গে খেলার সময় অন্য বন্ধুদের সঙ্গে বোঝাপড়ার জায়গাটিও তৈরি হয়। শিশু ধীরে ধীরে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। মানসিক বিকাশ ঘটলে শারীরিক রোগব্যাধিও কম হয়। শিশুর লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহায়ক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে।

যখন একজন শিশু আশপাশের সবকিছুর সঙ্গে বইয়ের মিল খুঁজে পাবে, তখন সে আপনা-আপনিই বইয়ের সঙ্গে লেগে থাকবে দিনরাত, অনেকটা সময় কাটাবে ছবিগুলো চিহ্নিত করতে করতে। তখন তার জন্য নতুন নতুন বই কিনতে হবে। এতে করে দেখবেন নতুন বই তাকে দেওয়ার আগেই সে পুরনো বইগুলো পড়ে ফেলেছে এবং নতুন বইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে! এভাবে তার মনের অজান্তেই আপনি বইয়ের সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক সৃষ্টি করে দিচ্ছেন যা আজীবন তাকে সাহায্য করবে। শিশুর বয়স যদি ২-৬ বছরের মধ্যে হয় তাহলে নিয়ম করে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি করে গল্পের বই তাকে পড়ে শোনান। সারা দিন নানা কাজ করে ক্লান্ত শরীরে হয়তো ভাবেন একটু বিশ্রাম নেবেন। কিন্তু ভেবে দেখুন প্রতিদিন কিন্তু শিশু ঘুমের সময় আপনি তার সঙ্গেই শুয়ে সাধারণত ঘুম পাড়ান। এই কাজটিই এখন শুধু করুন কেবল ঘুমানোর আগে ১৫ মিনিটে হলেও একটি বই তাকে পড়ে শোনান। এতে করে তার স্মার্টফোন বা কার্টুনের প্রতি আকর্ষণ কমতে থাকবে এবং আপনিও শিশুর সঙ্গে চমৎকার সময় কাটাতে পারবেন।