মুস্তাফা মনোয়ারকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা বনানীতে চিরনিদ্রায়

শিল্পের বহু মাধ্যমে আপন সৃজন প্রতিভায় রাঙিয়েছেন যিনি, সেই দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অগণিত মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন, কয়েক দফা জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে রাজধানীর বনানীতে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। গত সোমবার ৯১ বছর বয়সে অনন্তলোকে পাড়ি জমান বরেণ্য শিল্পী ও দেশের আধুনিক পাপেটের এই পথিকৃৎ।

গতকাল সকালে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার দীর্ঘ সময়ের কর্মস্থল রামপুরার বাংলাদেশ টেলিভিশনে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। এরপর বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক,

সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নানা সংগঠন।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

এরপর মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার প্রথম কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা জানান।

দুপুর ২টার দিকে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলুসহ চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শুরুর আগে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক দশকের শিল্পসাধনা, টেলিভিশন, চিত্রকলা, পাপেট আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক জাগরণে মুস্তাফা মনোয়ারের অসামান্য অবদান বাংলাদেশের

শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’