নতুন নোটের সংকট কাটাতে হিমশিম বাংলাদেশ ব্যাংকের

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ এএম

বাজারে নতুন টাকার নোটের সংকট কাটাতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নতুন নোট সরবরাহ করতে না পারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ ধরনের কাগজ, কালি ও নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহে জটিলতা, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মুদ্রণযন্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতার সীমার কারণে সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে পুরনো ডিজাইনের কিছু নোট পুনরায় বাজারে ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাজারে থাকা পুরনো ও জরাজীর্ণ নোট দ্রুত প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। কারণ, হাতবদলের মাধ্যমে মুদ্রা বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। অতীতে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সে কারণে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় নতুন নোটের সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সব মূল্যমানের নতুন নোট বাজারে সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজ, কালি ও নিরাপত্তা উপকরণ বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত এসব উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। কোনো চালান মানসম্মত না হলে তা বাতিল করে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে। তিনি জানান, নতুন নোট সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ৯ ধরনের নোটই মুদ্রণ করছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতারও একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। মুদ্রণযন্ত্রগুলো প্রায় সার্বক্ষণিক চালানোর চেষ্টা করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময় বন্ধ রাখতে হয়। অন্যথায় যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ কর্মকর্তা বলেন, চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন নোটের সংকট পুরোপুরি দূর করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

পুরনো ডিজাইনের যেসব নোট এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের মজুদ রয়েছে, সেগুলো পুনরায় বাজারে ছাড়া হবে কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে এ ধরনের নোট বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানান আরিফ হোসেন খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত