চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ১০ লাখ মানুষ

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ এএম

দেশের প্রায় ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের অন্ধত্বের জন্য দায়ী চোখের ছানি। অথচ বিশ্বব্যাপী এই হার ৫১ শতাংশ। দেশে প্রতি বছর অন্ধত্ব সৃষ্টিকারী ছানি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ১ লাখ ৩০ হাজার। অন্যদিকে বর্তমানে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। এক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় চক্ষু সার্জনের সংখ্যাও প্রায় চার গুণ কম। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত ‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার‌্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস)।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ডা. মইন উদ্দিন জানান, দেশে বর্তমানে চোখের ছানিজনিত অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। প্রতি ৮৩৩ জন অপেক্ষমাণ রোগীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন যোগ্য সার্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন। যা আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় চার গুণ কম।

তিনি বলেন, দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার অন্ধ শিশুর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশু চিকিৎসাযোগ্য হলেও এখনো শৈশবকালীন ছানির অস্ত্রোপচার পায়নি। একজন সার্জনের ওপর যদি ১ হাজারের কাছাকাছি রোগীর দায়িত্ব পড়ে, তাহলে জমে থাকা রোগীর চাপ কমানো সম্ভব নয়। প্রতিরোধযোগ্য এই অন্ধত্ব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ছানি এখনো বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই ছানি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিএসসিআরএস জানায়, ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষে জুন জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি, বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা, চোখ পরীক্ষা ক্যাম্প এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে জাতীয় প্রচেষ্টা আরও জোরদার করাই তাদের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এএসএম মইন উদ্দিন। এ ছাড়া দেশের বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, শিক্ষক, রেসিডেন্ট চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত