কুকুরের কামড়ে ৬ স্কুলশিশু আহত

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে ছয় স্কুলশিশু আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের ধাওয়ায় কুকুরটিকে আটক করে পিটিয়ে মারা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে আহত শিশুদের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও আহত শিশুদের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে কয়েকজন শিশু বিদ্যালয়ের মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সোহেল রানা (১০) মাঠে শুয়ে থাকা একটি কুকুরের ওপর পড়ে যায়। এতে কুকুরটি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে সোহেলকে এলোপাতাড়িভাবে কামড়ায়। পরে সেখানে থাকা তার আরও পাঁচ সহপাঠীর ওপরও হামলা চালিয়ে আহত করে।

আহত অন্য শিশুরা হলো— সাগর (১১), মুহিত (১০), মেহেদী (১২), মুন্নাফ (১০) ও হাদী (১১)। শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মৃত কুকুরটি পাশের নন্দকুঁজা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

স্বজনরা জানান, হামলার ঘটনায় শিশুরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরা করতে পারছে না।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত শিশুদের হাত, পা, চোয়ালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভ্যাকসিনের সব ডোজ সম্পন্ন করলে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম আলমাস বলেন, হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কুকুরের পাশাপাশি বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তাই কুকুরের পাশাপাশি গৃহপালিত বিড়ালকেও নিয়মিত টিকা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।