ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) সকালে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবার পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে মারধরের ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ছোট ভাই।
ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে বজলুর রহমান চেয়ারম্যানের সমর্থক ও বিএনপি সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ঢাল, লাঠি, রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তোজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মণ্ডল (৩০), রুবেল মণ্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) ও বাচ্চু মিয়া (৩২)।
এর মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং তিনজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমর্থকদের ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানের লোকজন হামলা চালায়। এতে আমাদের ৬/৭ জন আহত হয়েছেন।’
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।