ক্রিপ্টো ব্যবসায় ফুলেফেঁপে উঠছে ট্রাম্পের সম্পদ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা সংক্রান্ত ব্যবসায় প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয় করেছেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনকে তিনি স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। বুধবার (০১ জুলাই) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার শাসনামলে শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে কেবল তিনি নন, বরং দেশের সবাই লাভবান হচ্ছেন।

কাতার সরকারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কেন লাভ করছি জানেন? কারণ শেয়ার বাজার এখন তুঙ্গে। আমার শাসনামলে সবাই লাভবান হচ্ছে।’

প্রেসিডেন্ট পদে থেকে নিজের সম্পদ বাড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এই সম্পদগুলো ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্ট’ বা অন্ধ ট্রাস্টে রাখা হয়েছে, যাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ না রাখেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি অনেক অর্থের মালিক ছিলেন। এখন তার সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা ফান্ড বা তহবিল রয়েছে, যারা তার অর্থ পরিচালনা করে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সেই ফান্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কোনো আলোচনা করেন না বলেও দাবি করেন।

এদিকে সরকারি এথিকস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ট্রাম্পের আয়ের বড় একটি উৎস ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি। ২০২৫ সালে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ (ডব্লিউএলএফ) নামক একটি স্টার্টআপের সাথে যুক্ত থেকে তিনি প্রায় ৫৫ কোটি ডলার আয় করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের ছেলেরা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূতের ছেলের সাথে মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে চালু হওয়া ‘$TRUMP’ ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে তিনি আরও প্রায় ৬৩ কোটি ডলার আয় করেছেন। তথ্যমতে, এই ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত ব্যবসার কারণেই গত দুই বছরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তার সম্পদের পরিমাণ যেখানে ২৩০ কোটি ডলার ছিল, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫০ কোটি ডলারে।

সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের নিয়ম-কানুন শিথিল করেছেন, যার ফলে এই মুদ্রার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আর এর সরাসরি সুবিধা নিচ্ছেন তিনি নিজে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট গর্বের সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স