তেল আবিবকে কঠোর বার্তা

‘প্রভুর কথা না শুনলে শিক্ষা দেবে ইরান’

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম

ইসরায়েলের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেল আবিব যদি তাদের প্রভুর নির্দেশ না মানে, তবে ইরানই তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানালেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে আরাঘচি লেখেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো সবার জন্যই স্বচ্ছ এবং উন্মুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিবে থাকা তার ‘পোষা প্রাণীদের’ (ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে) মুখ বন্ধ রাখার বা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরাঘচি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি তারা তাদের প্রভুর (যুক্তরাষ্ট্র) নির্দেশ উপেক্ষা করে, তবে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ বা নেতৃত্বের প্রতি কোনো হুমকি আসলে তার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

এর আগে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ইরানীরা ভালো ব্যবসায়ীর মতো, যারা আলোচনার টেবিলে সুবিধা পেতে চায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না ইসরায়েল।

ইরান যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায় তবে ইসরায়েল কী পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে কাটজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক কার্যক্রমে যোগ দিক বা না দিক, ইসরায়েল নিজস্ব শক্তিতেই পাল্টা জবাব দেবে। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে ইরান আক্রমণ করলে ইসরায়েল এককভাবে শক্তি প্রয়োগ করবে, যা কোনো কিছুর ওপর নির্ভরশীল নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল রাষ্ট্রের অকৃত্রিম বন্ধু। তার বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি খুব ভালো করেই জানেন, কারা ভালো আর কারা খারাপ।’

এদিকে, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ প্রযুক্তিগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মাসে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভিত্তিতে এই আলোচনা চলছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের পর সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি থামানো এবং প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়াই এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার পথও প্রশস্ত করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত