কলেজের কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণায় প্রবেশপত্র পাননি বগুড়ার মহাস্থান মাহী সওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় কলেজের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
কলেজ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী শাওন বুধবার থেকে কলেজে আসেনি, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, সম্রাট হোসেন ও মো. হাসর ওরফে বাধন নামে দুই শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকসহ কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল এই দুইজনসহ আরও ১০ শিক্ষার্থীর। তবে কলেজের খন্ডকালীন এক কর্মচারীর প্রতারণায় শিক্ষাজীবন থেকে একবছর হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন।
গত ২৪ জুন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে জানানো হয়, বিলম্ব ফরম পূরণ করায় তাদের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। তবে বৃহস্পতিবার সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও তারা কেউ প্রবেশপত্র বা নিবন্ধন কার্ড পাননি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাগজপত্র না পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটরের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এক কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে টাকা দেয়ার সময় এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না, অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের এ বিষয়ে অবগত করতে বার বার নিষেধ করেছিলেন ওই কর্মচারী শাওন। সর্বশেষ বুধবারও বলেছিল তাদের প্রবেশপত্র আসছে রাজশাহী থেকে। প্রবেশপত্র না পেয়ে বুধবার অভিযোগ করেন অধ্যক্ষের কাছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল, এ বিষয়ে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ কেউ না করতে পারে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে কর্মচারীকে টাকা দিয়েছেন এ বিষয়ে তারা পূর্বে অবগত ছিলেন না বুধবার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। কলেজের লেনদেন ব্যাংকে হয়, কোন কর্মচারী নিজে টাকা নিতে পারে না, পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি যদি আগে জানা যেত অবশ্যই পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতেন। যেহেতু খন্ডকালীন এক কর্মচারী জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বছর মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনটি বিভাগে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।