চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি লোকালয়গুলোতে বন্য হাতির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলবেঁধে বন্য হাতির দল লোকালয়ে বিচরণ করায় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাতির হানার ভয়ে মাঠের ফসল ঘরে তোলা তো দূরের কথা, নিয়মিত চাষাবাদ করতেই ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে উপজেলার কালীপুর, বৈলছড়ি, সাধনপুর, পুকুরিয়া, পাইরাং, জলদী, চাম্বল, নাপোড়া এবং বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হাতির দল নিয়মিত হানা দিচ্ছে। দিনের বেলা পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই হাতির দল লোকালয় ও ফসলি জমিতে নেমে আসছে।
পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কৃষি প্রজেক্ট ও চাষের জমি এখন হাতির মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে বৈলছড়ি আল সুন্নাহ এগ্রো প্রজেক্টের পাশে একদল বন্য হাতি পাহাড় থেকে নেমে আসে বলে জানান স্থানীয় কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা শাহাদাত হোসেন তানজু। তিনি আরও জানান, ‘পাহাড় থেকে হঠাৎ করেই একপাল হাতি আমাদের প্রজেক্টের কাছাকাছি নেমে আসে। হাতির এই আকস্মিক বিচরণের কারণে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। এভাবে হাতির ভয় থাকলে এলাকায় চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’
স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাতির দল শুধু ফসলের ক্ষতিই করছে না, বরং বসতবাড়ি ও ফলদ বাগানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। হাতির আক্রমণের ভয়ে অনেক কৃষক ক্ষেতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই এই মৌসুমে হাতির উপদ্রব বাড়ে, তবে এবার হাতির দলের লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা অনেক বেশি। হাতির আক্রমণ থেকে ফসল ও জানমাল রক্ষায় বন বিভাগের দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা।