 তুমি কি কেবলই ছবি...

ডলি আনোয়ারের ‘দেবতা’

পাখির ডানার মতো দুহাত মেলে দিয়ে সাগরপাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক অচেনা নারী। দূরে, অসীমানায় তার দৃষ্টি। পড়ন্ত বেলায় সূর্যকে আড়াল করে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। গোধূলি বেলার একটু আগের আলোর রঙে চিক চিক করছে সাগরের পানি। সাগর তীরের সামনে শিল্পীর ব্রাশের মতো ধূসর একটা চর, সেখানে গুটিকয়েক মানুষ। এরপর উত্তাল সাগর। সাগর আর আকাশ মিশে গেছে দূর-দিগন্তে। বছর পাঁচেক আগে বিপিএস নিউজলেটারের ডিসেম্বর ১৯৮৬ সংখ্যার ইনার পেজে সাদাকালো এই ছবিতে আমার চোখ আটকে যায়। ছবিটির শিরোনাম ‘দেবতা’। আর অপূর্ব এই ছবির আলোকচিত্রী ডলি আনোয়ার। ক্যাপশনে লেখা, ১৯৮২-৮৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের

তৃতীয় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ‘মানুষ ও পৃথিবী’ ক্যাটাগরিতে প্রদর্শিত ছবি। আমি ছবিটির দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকি। শিরোনামের সঙ্গে ছবির বিষয়বস্তু মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করি। বুঝতে চাই, ছবিতে কী বোঝাতে চেয়েছেন ডলি। ছবিতে রূপান্তরের একটি বিষয় প্রবলভাবে লক্ষ্য করা যায়। ছবির মানুষটির হাত যিশুর মতো বাড়িয়ে রাখা। তার শরীরে জড়ানো কাপড়টাও একটু অন্যরকম, ফিন ফিনে সাদা কাফনের মতো। মানুষ থেকে দেবতায় রূপান্তরের যে ধাপ রুপালি রসায়নে সেটাই হয়তো তুলে ধরতে চেয়েছেন ডলি।

ছবির বিষয়বস্তুর সঙ্গে আমি ডলির বাস্তব জীবনেরও কিছু মিল খুঁজে পাই। ছবিটিই বেশিভাগ অংশই কালো। সেখানে সামান্য আলোর বিচ্ছুরণও আছে। এই ছবির ফিগারের যে ভাষা তাতে সিল্যুটের মধ্যে তার ব্যক্তিচরিত্রও ফুটে উঠেছে। ছবিটির পুরো ফ্রেমে ভর করে আছে নির্জনতা আর একাকিত্ব। মানুষটির ভেতরের যে নিঃসঙ্গতা, তা যেন তার বাইরের অবয়বেও প্রতিফলিত হচ্ছে।