ঝুঁকি কমাতে ফরোয়ার্ড রেট চুক্তির অনুমোদন

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

আমদানি অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সুদের হারের ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমাতে ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরবরাহকারী ঋণ ও ক্রেতা ঋণের আওতায় পরিচালিত ইউজেন্স আমদানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানায়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে যে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি করতে পারবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদ-ভিত্তিক সুদের হার, বিশেষ করে এসওএফআর-এর ওঠানামা থেকে আমদানিকারকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।

ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আগাম সুদের হার নির্ধারণ করা যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলেও আমদানিকারককে অতিরিক্ত সুদের ঝুঁকিতে পড়তে হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ সুবিধা শুধু প্রকৃত আমদানি লেনদেনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। কোনো ধরনের ফাটকাবাজি বা অরক্ষিত অবস্থান গ্রহণের সুযোগ থাকবে না। প্রতিটি চুক্তি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আমদানি লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে হবে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের ঋণের মানদ-ভিত্তিক সুদের হার হিসেবে এসওএফআর ব্যবহৃত হয়। ধরুন, কোনো আমদানিকারক ছয় মাসের জন্য এসওএফআরের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুদে ঋণ নিলেন। এ সময় এসওএফআর বেড়ে গেলে মোট সুদের ব্যয়ও বেড়ে যাবে। ফরোয়ার্ড রেট চুক্তির মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তা আগেই নির্ধারিত হারে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চুক্তিকৃত সুদের হার ও প্রচলিত মানদ-ভিত্তিক সুদের হারের পার্থক্যের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে। ব্যাংকগুলোর জন্যও কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের চুক্তির ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি একই দিনে সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে পুরোপুরি সমন্বয় করতে হবে, যাতে ব্যাংক নিজস্ব হিসাবে কোনো বাজারঝুঁকি বহন না করে। এ ছাড়া মূল্য নির্ধারণে ব্যাংকের মার্জিন সর্বোচ্চ ১০ বেসিস পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে একটি ব্যাংকের মোট ফরোয়ার্ড রেট চুক্তির পরিমাণ গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তিকাঠামো অনুসরণ, দৈনিক বাজার মূল্যায়ন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আগাম চুক্তি সমাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনীয় দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ ব্যবস্থা চালুর ফলে আমদানিকারকরা সুদের হারজনিত অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা পাবেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে দেশে আর্থিক ডেরিভেটিভস বাজারের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত