জুনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবে নিহত ৪০

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

চলতি বছরের জুন মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবে নিহত হয়েছেন ৪০ জন, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ জন নিহত ও ৩৪৬ জন আহত হন। অন্যদিকে এ সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ৩১ এবং আহত হয়েছেন ৬৯ জন। এ ছাড়া একই সময়ে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত জুন ২০২৬-এর মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন, যা মে মাসের তুলনায় বেশি। এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলার অন্তত ১২টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন।

রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জুন মাসে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬২৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও প্রায় ১ হাজার ২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে রাজনৈতিক ও অন্যান্য মিলে ২৫৭টি ঘটনায় ৪ হাজার ৭৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ১ হাজার ৫৫৯ নেতা-কর্মী, বিএনপির ৩৫ জন ও জামায়াতে ইসলামীর দুজন রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় জুন মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৬৩টি ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা ও মব সহিংসতার ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয় জুন মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ জন আহত, পাঁচজন লাঞ্ছিত ও ৯ জন হুমকির মুখে পড়েন এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া সাতটি মামলায় ১২ সাংবাদিককে আসামি করা হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে জুন মাসে অন্তত ১১টি ঘটনায় ১১ জনকে আটক ও সাতটি মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, হেফাজতে মৃত্যু ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় চারজনের ও কারাগারে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় গত মাসে ১২টি হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১২টি মন্দির, ১১টি প্রতিমা ও সাতটি বসতবাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে সংস্থাটির প্রতিবেদনে। জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার, ১৯ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ও ধর্ষণের পর দুই কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৯১ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া জুন মাসে শ্রমিক নির্যাতনের ৫৫টি ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ১৮৪ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনায় আরও ৩৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পাঁচটি ঘটনায় দুজন নিহত, দুজন আহত ও চারজন গুলিবিদ্ধ এবং বিএসএফ একজনকে আটক করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও ১২ জনকে আরাকান আর্মি আটক করেছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত