সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব কার

চট্টগ্রাম মহানগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রোড ডিভাইডারের ব্যবহার নিয়ে বিরোধে সিডিএ ও সিটি করপোরেশন। রোড ডিভাইডার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পরিবর্তে নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন সবুজায়ন করতে চায় সিডিএ। অন্যদিকে এলিভেটেডের নিচের রোড ডিভাইডারের সবুজায়নের জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু সিডিএর আওতাধীন থাকা রোড ডিভাইডার বরাদ্দ দেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিডিএ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সিডিএ’র সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম স্বাক্ষরিত ২ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল সিডিএর পক্ষ থেকে লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার রাস্তা সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হলো। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে নির্মিত ডিভাইডারে সৌন্দর্যবর্ধন কাজ ব্যতীত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ডিভাইডারের মধ্যে ছোট-বড় বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড স্থাপন, ব্র্যান্ডিং কিংবা সৌন্দর্যবর্ধন কাজের জন্য সিটি করপোরেশন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বা হচ্ছে। কিন্তু সিডিএ যে শর্তে সিটি করপোরেশনকে তা হস্তান্তর করেছে, সেই অনুযায়ী সিটি করপোরেশন কারও সঙ্গে চুক্তি করতে পারে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হস্তান্তর চুক্তি অনুযায়ী সিটি করপোরেশন এই স্থান কাউকে বরাদ্দ দিতে পারে না। এই স্থানে আমরা সিডিএ আর্কিটেক্ট প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুযায়ী নান্দনিকভাবে সবুজায়ন করব। একই সঙ্গে পুরো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশার মধ্যে একটা ইউনিক ডিজাইন থাকবে। আর এ জন্যই এই জায়গাটি আমরা সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করিনি।’

কিন্তু সিটি করপোরেশন এই জায়গা এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম জিএম পাবলিসিটি। প্রতিষ্ঠানটি লালখানবাজার থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত অংশ সৌন্দর্যবর্ধন ও বিজ্ঞাপনী বোর্ড বসানোর জন্য অনুমোদন পেয়েছে সিটি করপোরেশন থেকে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে বলে স্টিকারও লাগিয়েছে এবং সেখানে ফোন নম্বরও দেওয়া রয়েছে। সেই ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তার সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এক বছর আগেই ৫ বছরের জন্য এই জায়গাটি সৌন্দর্যবর্ধন ও বিজ্ঞাপনের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে বরাদ্দ পেয়েছি।

সিডিএ’র জায়গায় সিটি করপোরেশন থেকে বরাদ্দ দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগরীতে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সিটি করপোরেশন করে আসছে। আর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের স্থানটিও আমরা নান্দনিকভাবে সাজানোর জন্য কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করছি। তবে এটা নিয়ে যদি সিডিএ কাজ করতে চায়, তাহলে আমরা সিডিএ’র সঙ্গে বসে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের লক্ষ্য শহরের সৌন্দর্যবর্ধন।

একই মন্তব্য করে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা কিংবা সিটি করপোরেশন উভয়েই কিন্তু এই শহরের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডিভাইডারের এই অংশের সৌন্দর্যবর্ধন নিয়ে প্রয়োজনে আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, সিডিএ থেকে এর আগেও এ ধরনের চিঠি দিয়েছিল। এই নগরের সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব হলো সিটি করপোরেশনের। আর সিটি করপোরেশনের সড়কের ওপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এবং হস্তান্তরের পর স্বাভাবিকভাবেই তা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। সড়কের একটি অংশ আংশিকভাবে হস্তান্তর হয় না। তাই সিটি করপোরেশনের আওতায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ যথার্থই আছে।

উল্লেখ্য, সরকারি অর্থায়নে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে সিডিএ। ২০১৭ সালে একনেকে পাস হলেও এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। এরই মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতায় প্রধান অংশটি চালু হলেও সবগুলো র‌্যাম্প (ওঠা-নামার রাস্তা) এখনো চালু হয়নি।