উল্লাসের মঞ্চে বিষাদের সুর

উত্তেজনা আর আশঙ্কার এক সুতীব্র দোলাচলে সানফ্রান্সিসকোর আকাশ তখন কাঁপছে হাজারো মানুষের গগনবিদারী চিৎকারে। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো শূন্যে হাত ছুড়ে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছেন, আর গ্যালারিতে ডালপালা মেলছে একরাশ চেনা শঙ্কা। জাদুকরী এক গোল করে বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমসের ট্রেডমার্ক ‘সাইলেন্সার’ উদযাপনে যিনি কিছুক্ষণ আগেই পুরো স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে রেখেছিলেন, সেই ফ্লোরিয়ান বালোগুন ৬৪ মিনিটে যখন সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ছেন, তখন স্বাগতিকদের ডাগআউটে নেমে এসেছে আসন্ন বিপর্যয়ের ছায়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও, মাঠের সেই জৌলুস এক লহমায় মøান হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা স্ট্রাইকারের এই ট্র্যাজিক প্রস্থানে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত গতি ও নিখুঁত সব ওয়ান-টাচ ফুটবলে বসনিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল পচেত্তিনোর শিষ্যরা। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের একের পর এক আক্রমণ বারেবারে কেঁপে উঠছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণ। ম্যাচের ৩২ মিনিটে বালোগুন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে আর রক্ষা হয়নি। ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও মালিক টিলম্যানের দারুণ বোঝাপড়া থেকে আসা এক ডিফ্লেক্টেড বল দারুণ দক্ষতায় জালে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বালোগুন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।

নাটকের আসল অঙ্কটা মঞ্চস্থ হয় ৬৪ মিনিটে। বল দখলের এক সাধারণ লড়াইয়ে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বুটের তলা দিয়ে আঘাত করে বসেন বালোগুন। রেফারি শুরুতে কার্ড না দেখালেও ভিএআর পরীক্ষার পর সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত জানান। এই একটি মাত্র সিদ্ধান্তে ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের সেই কুখ্যাত রেকর্ডের পাশে নাম উঠে যায় বালোগুনের। জিদানের পর তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি লাল কার্ডও দেখলেন।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এরপর বসনিয়া চড়াও হলেও পচেত্তিনোর দল দেখিয়েছে অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তা ও পরিপক্বতা। শেষ দিকে সার্জিনো ডেস্টের আদায় করা ফ্রি-কিক থেকে এক চোখধাঁধানো ও মাপা শটে বল জালে জড়িয়ে পুরো স্টেডিয়ামে স্বস্তির জোয়ার আনেন মালিক টিলম্যান।