ইতিহাস গড়ার হাতছানি দুই দলের সামনেই। অস্ট্রেলিয়া-মিসর লড়াইয়ে যে জিতবে, সেই প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাবে। মিসর অবশ্য ইতিহাস গড়েই এ পর্যন্ত এসেছে। বৈশ্বিক আসরে প্রথমবার কোনো ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটে নাম লিখিয়েছেন মোহামেদ সালাহরা। অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপেও নকআউটে জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বাদ পড়ে সকারুজরা। আরেকবার ইতিহাস ডাকছে তাদেরও। দুই দলের একমাত্র মুখোমুখি লড়াইয়ের ২০১০ সালে ৩-০ গোলের জয় পায় মিসর।
ডালাসে এবারের লড়াই শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়, দুই ভিন্ন ফুটবল-সংস্কৃতিরও স্বাদ দেবে। আফ্রিকার সবচেয়ে সফল ফুটবল দলগুলোর একটি মিসর। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বহু বছর ওশেনিয়া অঞ্চলে আধিপত্য করার পর বড় চ্যালেঞ্জের খোঁজে ২০০৬ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনে (এএফসি) যোগ দেয়। সেই সিদ্ধান্তই তাদের বিশ্বকাপের নিয়মিত মুখে পরিণত করেছে। দুই দলই গ্রুপ পর্বের কঠিন লড়াই পেরিয়ে এসেছে। তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনা সালাহকে নিয়ে।
ইরানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান মিসরের অধিনায়ক। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা। বুধবার একটি ভিডিওতে অবশ্য দেখা যায়, সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলনে না নেমে জিমে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার কাজ করছেন আরব্য রজনীর স্বপ্নপূরণের নায়ক। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘ফিরে আসার পথ শুরু হয়েছে, রাজা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরছে।’ কোচ হোসাম হাসান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সালাহকে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন। এই তারকা পুরো ম্যাচ খেলতে না পারলেও বদলি হিসেবে নামতে পারেন বলেই আলোচনা চলছে।
সালাহ খেললেও বাড়তি ভীতি নেই বলেই দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার জর্ডান বস, ‘মাঠের বাইরে হয়তো কিছুটা সম্মান থাকে, কিন্তু মাঠের ভেতরে কোনো সম্মান নেই। এখানে হয় তুমি টিকে থাকবে, নয়তো হারিয়ে যাবে। সবাই এই মানসিকতা নিয়েই ম্যাচে নামবে, আমরাও তাই করব।’ সালাহকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জর্ডান বলেন, ‘সালাহ একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। তিনি অনেক বছর ধরেই বিশ্বের সেরাদের একজন। অবশ্যই আমরা দেখব, কীভাবে তাকে এবং মিসরকে থামানো যায়। এ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে কিছু কাজ করেছি। এখন শুধু শেষ মুহূর্তের কিছু বিষয় ঠিকঠাক করা এবং কোচ ও কোচিং স্টাফ আমাদের জন্য কী পরিকল্পনা করেছেন, সেটি বাস্তবায়নের অপেক্ষা।’
সালাহর ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মিসরের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তাদের পারফরম্যান্স। বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র করে এবারের যাত্রা শুরু করার পর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয় তুলে নেয় ফারাওরা। শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ড্র করে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে এসেছে তারা। ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবারই প্রথম নকআউটে খেলছে মিসর।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার যাত্রাপথও সহজ নয়। টনি পপোভিচের দল প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে সমীকরণ জটিল হয় তাদের। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে রাউন্ড অব ৩২-এ এসেছে সকারুজরা। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব টপকালো দলটি। তবে এর আগে কখনোই নকআউটে জয় পায়নি। ২০০৬ সালে ইতালির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের বিতর্কিত পেনাল্টি এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের স্মৃতি এখনো তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে।
দুই দলের কৌশলেও রয়েছে পার্থক্য। মিসর উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলতে পছন্দ করে। সালাহ না খেললেও ওমর মারমুশ, ট্রেজেগে এবং মোস্তাফা মোহামেদের মতো ফুটবলাররা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।