মেয়েদের স্কুল ক্রিকেটে চোখ

মাত্র ২ জন পেসার নিয়ে এবার ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায় বাংলাদেশ নারী দল। মিরপুরে দল ঘোষণার দিন প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ কোনো রাখঢাক না রেখে জানান, দেশের পাইপলাইনের প্রক্রিয়া খুবই ধীর। অর্থাৎ যথেষ্ট পেসার নেই তাদের হাতে। এ নিয়ে আক্ষেপ ঝরে নারী দলের এক সদস্যের কণ্ঠে, ‘গোটা দেশে সব মিলিয়ে ১ হাজার মেয়েও ক্রিকেট খেলে না। অথচ ভারতের প্রতিটি রাজ্যে ১৩ হাজার নারী ক্রিকেটার আছে। অস্ট্রেলিয়ায় শুধু নিবন্ধিত নারী ক্রিকেটার ২ লাখ ৭৮ হাজার। আমরা কোথায় পড়ে আছি, চিন্তা করুন।’

যদিও এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ ম্যাচ জিতে দেশে ফিরেছেন নিগার সুলতানারা। তবে এই পারফরম্যান্সে খুশি নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগ। এজন্য ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঠিক করতে গতকাল মিরপুরে এই বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন সদস্যরা। সেখানে মেয়েদের ক্রিকেটের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে দ্রুত স্কুল ক্রিকেট শুরুর আলোচনা হয়।

এই বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক সদস্য নিজের নাম প্রকাশ করতে চেয়ে বলেন, ‘আমরা অনেক ভেবেছি কীভাবে মেয়েদের ক্রিকেটের পাইপলাইন ঠিক রাখা যায়। কিন্তু দেখেন, এত বছরেও আমরা প্রতিটি পজিশনের জন্য যথেষ্ট বিকল্প তৈরি করতে পারিনি। কারণ, দেশে নারীদের ক্রিকেট নিয়ে এখনো বেশ প্রতিবন্ধকতা আছে।’ এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই স্কুল ক্রিকেট শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি, ‘বিশেষ করে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিবেশ। কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল আছে যেখানে সাধারণভাবে খেলোয়াড় পাওয়া যায় না। যেমন চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ। এই এলাকাগুলোতে খেলোয়াড়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বরিশাল বিভাগেও একই অবস্থা। এসব অঞ্চলে ধর্মীয় প্রভাব ও সামাজিক রক্ষণশীলতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক চাপের কারণে মেয়েরা ক্রিকেটে আসতে চায় না। আমরা চাই স্কুল ক্রিকেট দিয়ে মেয়েদের খেলার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে।’

তবে শুরুতে কতগুলো স্কুলকে এই প্রতিযোগিতার অধীনে আনা যাবে, তা এখনো জানে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আগ্রহীদের নিয়ে ছোট পরিসরে হলেও চলতি বছর এই টুর্নামেন্ট মাঠে নামাতে চায় নারী বিভাগ।