সুরা লাহাবের শিক্ষা

অহংকার মানুষের পতন ঘটায়। ইতিহাসে এর বহু প্রমাণ রয়েছে। যুগে যুগে সত্যের পথে বাধা এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যই জয়ী হয়েছে। যারা আলো নেভাতে চেয়েছে, তারাই চিরতরে অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। পবিত্র কোরআনের সুরা লাহাব আমাদের এই অমোঘ শিক্ষাই দেয়।

ইসলামের প্রথম যুগের কথা। মক্কার সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে সত্যের ডাক দেন মুহাম্মাদ (সা.)। আপন চাচা আবু লাহাব এই ডাকে সাড়া দিল না। উল্টো সে চরম উদ্ধত ও রুক্ষ আচরণ করল। সে প্রকাশ্যে নবীজিকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করল। তার এই চরম ঔদ্ধত্যের জবাব সরাসরি আসমান থেকে দেওয়া হলো। নাজিল হলো সুরা লাহাব।

এই সুরার ৫টি আয়াতে আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর চূড়ান্ত পরিণতির কথা ঘোষণা করা হয়। তার অনেক সম্পদ ছিল। সে দাম্ভিকতার সঙ্গে ভাবত, তার এই বিপুল সম্পদ তাকে যেকোনো বিপদ থেকে রক্ষা করবে।

কিন্তু সুরা লাহাবের ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার ধন-সম্পদ ও যাবতীয় উপার্জন কোনো কাজেই আসবে না। অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়। আবু লাহাবের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছিল। সে নবীজির চরম শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। নবীজির পবিত্র মিশনকে থামিয়ে দেওয়াকেই সে নিজের জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছিল।

পরবর্তীতে আবু লাহাব এক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। দুর্গন্ধের কারণে পরিবারের লোকেরাও তার লাশের কাছে যায়নি। দূর থেকে পাথর ও মাটি ছুঁড়ে তাকে গর্তে চাপা দেওয়া হয়। এভাবেই দুনিয়াতে সে ধ্বংস হয়। নবীজির প্রতি বিদ্বেষ ও ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই যে চূড়ান্ত ধ্বংস ডেকে আনে, আবু লাহাবের জীবন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।