মানুষ পৃথিবীতে স্বাধীন। তার সামনে দুটি পথ খোলা। একটি আলোর। অন্যটি অন্ধকারের। মানুষ তার ইচ্ছামতো যেকোনো পথ বেছে নিতে পারে। তবে প্রতিটি কাজের একটি নিশ্চিত পরিণাম রয়েছে। দুনিয়া মূলত একটি পরীক্ষাকেন্দ্র। এখানকার প্রতিটি কাজের হিসাব পরকালে দিতে হবে। নিজের কাজের দায় নিজেকেই নিতে হবে।
পবিত্র কোরআনের সুরা রুমের ৪৪ নম্বর আয়াতে এই চিরন্তন সত্যটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে কুফরি করে তার কুফরির পরিণাম তার ওপরই বর্তাবে। আর যারা সৎকর্ম করে তারা নিজদের জন্য সুখশয্যা রচনা করে।
এই আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। যারা স্রষ্টার অস্তিত্ব ও বিধানকে অস্বীকার করে, তাদের এই অবাধ্যতা ও কুফরির ভয়ংকর শাস্তি কেবল তাদেরই ভোগ করতে হবে। বিচারের সেই কঠিন দিনে অন্য কেউ এই শাস্তির বিন্দু পরিমাণ বোঝাও বহন করবে না
অন্যদিকে যারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ইমান আনে এবং দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তারা মূলত নিজেদের জন্যই পরকালে চিরস্থায়ী শান্তির ব্যবস্থা করে। তারা নিজেদের জন্য জান্নাতের এমন এক অনন্ত সুখের শয্যা প্রস্তুত করছে, যেখানে কোনো দুঃখ, কষ্ট ও হতাশা থাকবে না।
দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখের মোহে পড়ে আখেরাতের অনন্ত জীবনকে ধ্বংস করা মানুষের জন্য চরম বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের উচিত, নিয়মিত সৎকাজের মাধ্যমে পরকালের সেই শান্তির আবাসটি সুনিশ্চিত করা।