দিন-রাতের আবর্তনে উপদেশ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ। এতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের জন্য রয়েছে সান্ত্বনা ও সুসংবাদ। কারণ সময়ের দ্রুত আবর্তন বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেয়, সে তার বিগত জীবন নিয়ে চিন্তা করে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবে। এতে প্রত্যেক অবহেলাকারীর জন্য রয়েছে শিক্ষা, যাতে সে ভবিষ্যতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করে। আর প্রত্যেক দুঃখগ্রস্ত মানুষের জন্য রয়েছে সান্ত্বনা, কারণ কঠিন সময়ও একসময় শেষ হয়ে যায়। তাই কোনো গাফেল মানুষ যেন দুনিয়ার চাকচিক্যে প্রতারিত না হয় এবং কোনো সংকটগ্রস্ত ব্যক্তি যেন হতাশ না হয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই রাত ও দিনকে একে অপরের পরপর আগমনকারী করেছেন, যাতে যে ব্যক্তি উপদেশ গ্রহণ করতে চায় অথবা কৃতজ্ঞ হতে চায়, সে তা করতে পারে।’ (সুরা ফুরকান ৬২) অর্থাৎ তিনি রাত ও দিনকে এমনভাবে পরস্পরের অনুগামী করেছেন, একটি চলে গেলে অন্যটি আসে। এ ধারাবাহিকতা কখনো থেমে থাকে না। একটি বিদায় নেয়, অন্যটি উপস্থিত হয়। আর রাত ও দিনের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে চিন্তাশীল মানুষ যেন সৃষ্টিকর্তার একত্বের প্রমাণ উপলব্ধি করতে পারে এবং জানতে পারে, তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী।

আবার কৃতজ্ঞ ব্যক্তি যেন রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে নিহিত মহান নেয়ামত ও অসংখ্য অনুগ্রহের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। একই সঙ্গে তিনি রাত ও দিনকে এভাবে পর্যায়ক্রমে আসার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে বান্দারা পূর্ববর্তী সময়ে করতে না পারা নেক আমল, ইবাদত ও কল্যাণকর কাজ পরবর্তী সময়ে পূরণ করে নিতে পারে। যে ব্যক্তি রাতে কোনো নেক আমল করতে পারেনি, সে দিনে তা পূরণ করবে। আর যে ব্যক্তি দিনে কোনো নেক আমল করতে পারেনি, সে রাতে তা পূরণ করবে।

হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রাতের বেলায় তার হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনের গুনাহগার তওবা করতে পারে। আর দিনের বেলায় তার হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতের গুনাহগার তওবা করতে পারে। এভাবে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম)

কোরআনের বাণী, ‘তিনিই রাত ও দিনকে একে অপরের পরপর আগমনকারী করেছেন’, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ব্যাখ্যায় বলেছেন, এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি রাতের কোনো আমল করতে পারেনি, সে তা দিনে আদায় করতে পারবে। আর যে ব্যক্তি দিনের কোনো আমল করতে পারেনি, সে তা রাতে আদায় করতে পারবে।

নিশ্চয়ই রাত ও দিনের ধারাবাহিক আগমন, বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ার মধ্যে সেই ব্যক্তির জন্য সান্ত্বনা রয়েছে, যার জীবন সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং যার কাজকর্ম জটিল হয়ে গেছে। কারণ দুনিয়া পরিবর্তন ও ক্ষয়প্রাপ্তির আবাস। এখানে কোনো অবস্থাই স্থায়ী নয় এবং কোনো পরিস্থিতিই চিরস্থায়ী থাকে না। বরং দুনিয়া তার অধিবাসীদের এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় স্থানান্তরিত করে। এক অবস্থার পর আরেক অবস্থার আগমন ঘটায়। সুতরাং আপনার সংকীর্ণ ও কঠিন অবস্থাও একদিন দূর হয়ে যাবে। যেমন দিনের আলো রাতের অন্ধকারকে দূর করে দেয়।

২৬ জুন শুক্রবার, মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত