চারা পাচার রোধে কড়া নজরদারি

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আজ জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকিতে। বিপন্ন এই দ্বীপকে প্রকৃতির রুদ্ররূপ থেকে বাঁচাতে সবচেয়ে বড় ভরসা ‘প্রাকৃতিক প্রযুক্তি’ বা কেয়াগাছের সবুজ বেষ্টনী। শত বছর ধরে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে দ্বীপের মাটিকে আগলে রেখেছে এই কেয়াবন। কিন্তু মানুষের অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন আর অসচেতনতার থাবায় আজ বিপন্ন প্রকৃতির এই রক্ষাকবচ। এই পরিস্থিতিতে বীজ থেকে কেয়াগাছের নতুন চারা তৈরি, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং চারা পাচাররোধে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জনপ্রতিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বীপের চারপাশজুড়ে কেয়াগাছের ঘন শেকড় ও বায়বীয় মূল মাটির ক্ষয়রোধ করে এবং জলোচ্ছ্বাসের গতি কমিয়ে দেয়। বর্তমানে কৃত্রিমভাবে তৈরি বালি বা জিওব্যাগের বাঁধের চেয়ে কেয়াগাছের এই দীর্ঘস্থায়ী বনায়ন দ্বীপকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে টেকসই মাধ্যম। গাছ থেকে পাকা কেয়াফল সংগ্রহ করে তার বীজ শোধন করে খুব সহজেই বিপুল পরিমাণ নতুন চারা উৎপাদন সম্ভব। তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, শুধু চারা লাগালেই হবে না, সেগুলোর উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জমির উদ্দিন বলেন, ‘সরকার সেন্টমার্টিন দ্বীপকে টিকিয়ে রাখতে একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কাজ করছে। তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। কিছু অসাধু চক্র নতুন রিসোর্ট তৈরির নামে রাতের আঁধারে কেয়াগাছ কেটে ফেলছে এবং এখান থেকে চারা ও ফল অন্যত্র পাচার করছে। আমরা এই বনখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেব। পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষকে এই চারা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যুক্ত করতে সামাজিক বনায়নের বিশেষ কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দ্বীপের অস্তিত্বের সঙ্গে কেয়াগাছের সুরক্ষা সরাসরি জড়িত। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু এলাকায় নির্বিচারে কেয়াগাছ কাটার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কড়া নজরদারি চালু করেছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে কেয়াফল থেকে বীজ সংগ্রহ, নতুন করে দ্বীপের চারপাশে চারা রোপণের একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলব। চারা বা ফল পাচাররোধে কোস্টগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের নিয়ে বিশেষ ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন দিনশেষে দ্বীপটা আমাদের, তাই একে বাঁচানোর দায়িত্বও আমাদের সবার। দ্বীপের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত অর্থায়নে ব্যাপক পরিসরে কেয়া বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং বনখেকোদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।’