৩২ কিলোমিটারের মাত্র ২৫০০ মিটার সংস্কার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

বাঁশখালীর বুক চিরে প্রবাহিত দীর্ঘ ৩২ কিলোমিটারের জলকদর খালের মাত্র ২৫০০ মিটার (২.৫ কিলোমিটার) খননকাজ শুরু হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। খালের আরও প্রায় ১০ হাজার মিটার সম্পূর্ণ সংস্কারহীন থাকায় পুরো খালটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, জলকদর খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা, কৃষি জমিতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের মতো নানামুখী সমস্যায় ভুগছেন তারা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার খাল খনন প্রকল্পের আওতায় এ খালের মাত্র ২৫ শত মিটার (২.৫ কিলোমিটার) খননকাজ শুরু হয়, যা জুনের মধ্যে শেষ করে খালের দুই পাড়ে গাছ লাগানোর নির্দেশনা ছিল।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রায় ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পের আওতায় খানখানাবাদ ইউনিয়নে ১১০০ মিটার, বাহারছড়া ইউনিয়নে ১১০০ মিটার এবং সাধনপুর ইউনিয়নে ৩০০ মিটার খাল খনন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী খালের মুখের প্রস্থ ৩৬ ফুট, মধ্যভাগের প্রস্থ ২২ ফুট, তলার প্রস্থ ৯ ফুট এবং গভীরতা ১২ ফুট রাখা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, খালখনন চলমান কাজে এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে খালের মাটি দুই পাশে স্তূপ করে ফেলে রাখা হচ্ছে, যা সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে আবারও খালে পড়বে। কাজটি যথাযথ টেকসই উপায়ে করার দাবি জানান তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, বাঁশখালীর অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত জলকদর খালটির মোট দৈর্ঘ্য ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে খানখানাবাদের ঈশ্বরবাবুর হাট থেকে কাথারিয়া চুনতি বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো জলকদর খাল সংস্কার ও খননের আওতায় আসবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খালের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জলকদর খালটি যদি সম্পূর্ণ সংস্কার করা যায়, তবেই কেবল কৃষি ও মৎস্য খাতসহ উপকূলীয় এলাকার লাখো মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত