রাস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইলের বৈল্যা এলাকায় অন্ধকার রাতে রাস্তায় ফেলে যাওয়া ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের আবার আশ্রয় মিলেছে স্বজনদের কাছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও মানবিক সহায়তার ঘোষণায় এটি সম্ভব হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। স্ত্রী মারা গেছেন প্রায় আট বছর আগে। বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, মেজ ছেলে মারা গেছেন এবং ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের যেটুকু সম্বল ছিল দুই ছেলের নামে তিনি লিখে দিয়েছেন।

মফিজ উদ্দিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতে বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রাস্তায় ফেলে আসেন।

এ খবর জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। তার নির্দেশনায় রাতেই টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় বৃদ্ধের নাতনিকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃদ্ধ বাবাকে আশ্রয় দিতে রিনা বেগম প্রথমে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রতিমন্ত্রী তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সম্মত হন। প্রতিমন্ত্রী টুকু মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া ওই বৃদ্ধের নামে সরকারি বয়স্কভাতার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’