৪ শিক্ষার্থীর জন্য স্থায়ী প্রভাষক নিয়োগ দিচ্ছে ফারসি বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ফারসি বিষয়ে সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ইনস্টিটিউট প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এই মুহূর্তে নতুন কোনো শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। কারণ, বিভাগটির চারটি কোর্স এলিমেন্টারি, সিনিয়র, ডিপ্লোমা ও হায়ার ডিপ্লোমার মধ্যে বর্তমানে কেবল এলিমেন্টারি কোর্সে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী ক্লাস করছেন। সে হিসেবে ইনস্টিটিউটের দুইজন খন্ডকালীন শিক্ষকেরই প্রয়োজনীয় ক্লাস লোড নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সেশনে বিভাগটির এলিমেন্টারি কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনজন ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বছর এলিমেন্টারি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ছয় শিক্ষার্থী। অন্যদিকে প্রি-ইন্টারমিডিয়েট, ডিপ্লোমা এবং উচ্চতর ডিপ্লোমা কোর্সে একজন শিক্ষার্থীও নেই।

আইএমএলের ৪০ বছর পুরনো ফারসি বিভাগে অতীতে উল্লেখিত চারটি শ্রেণিতেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু গত প্রায় এক দশক ধরে শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে বিভাগটি। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে গতানুগতিক পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ফারসি ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা কাক্সিক্ষত সাফল্য না পেয়ে অনেকেই মাঝপথে ঝরে পড়েন। এর প্রভাবেই পরবর্তী স্তরের কোর্সগুলো চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিভাগটিতে একজন চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপক রয়েছেন। এ ছাড়া, গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন শিক্ষক, ভাষাবিদ ও গবেষককে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থী সংকটের কারণে এই দুই শিক্ষকেরই পর্যাপ্ত ক্লাস নেওয়ার সুযোগ হচ্ছে না। এদিকে, সম্প্রতি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আফছার কামাল বিভাগটিতে একজন স্থায়ী প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৬টি ক্লাস লোড থাকতে হয়। একজন স্থায়ী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সপ্তাহে অন্তত ১৬টি ক্লাস নেওয়ার কথা। অথচ বর্তমানে দুইজন খন্ডকালীন শিক্ষকেরই পর্যাপ্ত ক্লাস লোড নেই। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এমতাবস্থায় স্থায়ী প্রভাষক নিয়োগের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি একটি নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অবস্থায় নতুন শিক্ষক নিয়োগের অর্থ হবে বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করা, যা অপ্রয়োজনীয়। তাদের ধারণা, বিশেষ মহলের চাপে ইনস্টিটিউটের পরিচালক এই অপ্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ নিদারুণ অর্থের অপচয় এবং এতে ইনস্টিটিউটের কোনো কল্যাণ হবে না বলেও তারা মনে করেন।

শিক্ষক প্রয়োজন না হলেও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার শামস উদ্দিন আহমদ বলেন, শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা থাকলে ইনস্টিটিউট নিজেই বিজ্ঞপ্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আফছার কামাল বলেন, এটা মাকসুদ কামাল স্যারের (সাবেক উপাচার্য) আমলেরই প্রক্রিয়া। ওই সময় যোগ্য কাউকে পাওয়া যায়নি বলে নেওয়া হয়নি। তিনি একা নন, বরং যে কোনো সিদ্ধান্ত সিঅ্যান্ডডি কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।