বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়েই আনন্দ

নাটকের জনপ্রিয় মুখ পারসা ইভানা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন নাটক ‘অথবা তুমি আমি’। বৃষ্টি সিদ্দিকীর গল্প ও ইমরাউল রাফাতের পরিচালনায় রোমান্টিক ও পারিবারিক ঘরানার এই নাটকে ইভানার অভিব্যক্তি ও অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ইয়াশ রোহান। নাটকটির দারুণ সাফল্য ও অভিনয় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ

‘অথবা তুমি আমি’ নাটকের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

নাটকটি প্রচারের পর থেকে সত্যি বলতে ভীষণ সাড়া পাচ্ছি। দর্শকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ভালোবাসা আর প্রশংসা পাচ্ছি, তাতে আমি এক কথায় উচ্ছ্বসিত। তাদের এই ভালোবাসার প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।

নাটকের চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমার চরিত্রটি আমার জন্য বেশ আলাদা ও ব্যতিক্রমী ছিল। এর আগে নাটকে আমি এমন চরিত্রে অভিনয় করিনি। চরিত্রটি যেন পর্দায় একদম প্রাণবন্ত হয়, সেজন্য আমার নিজের সর্বোচ্চ মনোযোগ ছিলই; সেই সঙ্গে পরিচালক রাফাত ভাই যেভাবে চেয়েছেন, আমি ঠিক সেভাবেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেছি। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং দর্শক যখন সেটা পছন্দ করেন, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়। চরিত্রটি খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং না হলেও, একদমই ভিন্ন ধাঁচের একটি কাজ ছিল আমার জন্য।

পর্দায় আপনার আর ইয়াশ রোহানের রসায়নও দর্শক বেশ পছন্দ করেছেন...

ইয়াশের সঙ্গে এটি আমার তৃতীয় কাজ। ও এই প্রজন্মের অন্যতম গুণী ও ন্যাচারাল অভিনয়ে পারদর্শী। নিজের চরিত্র ও অভিনয়েও বরাবরের মতোই নিখুঁত। এই নাটকে ইয়াশের চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ও একটি ড্রাগ অ্যাডিক্টের চরিত্রে অভিনয় করেছে। সহশিল্পী হিসেবে ওর দারুণ সহযোগিতা ছিল এবং আমরা দুজনেই খুব প্রফেশনাল ওয়েতে, পর্যাপ্ত রিহার্সাল করে কাজটি প্রপারলি করার চেষ্টা করেছি। আমাদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রিটা যে দর্শক পছন্দ করেছেন, তাতেই আমাদের পুরো টিমের বোঝাপড়া ও পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

নাটকটি রোমান্টিক ও পারিবারিক ঘরানার। এ সময়ের ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে এমন গল্প বেছে নেওয়ার কারণ কী?

আমি নাটকে কাজ করার ক্ষেত্রে বরাবরই ভীষণ খুঁতখুঁতে বা চুজি। গল্পটা ভালো হওয়া চাই, চরিত্রটিও হওয়া চাই মনের মতো। এমনটা মিললেই কেবল আমি কাজ করি। শুধু অর্থের জন্য মাসে একের পর এক কাজ করার পক্ষপাতী আমি একদমই নই। ভালো গল্পের নাটকের দর্শক তৈরি হতে হয়তো একটু সময় লাগে, কিন্তু সেই ভালো লাগাটা দীর্ঘস্থায়ী হয়। ‘অথবা তুমি আমি’ ঠিক তেমনি আমার মনের মতো একটি কাজ।

নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতেও আপনাকে ভিন্ন লুকে দেখা গেছে। সুমন আনোয়ারের ‘মির্জা’ ওয়েব ফিল্মের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

‘মির্জা’ আমার জন্য আরেকটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা ছিল। সেখানে আমাকে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল। ওটিটির দর্শকরাও কাজটি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। আসলে একজন অভিনেত্রী হিসেবে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করার আনন্দই আলাদা। আগামীতেও এমন সব গল্পে কাজ করতে চাই, যা দর্শকদের মনে দাগ কেটে যাবে।