কোরআনের বর্ণনায় মানব সন্তান সৃষ্টির ধাপ

মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভালোবাসে। নিজের জন্মের রহস্য জানতেও আগ্রহী হয়। কোরআন সেই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করেছে। মানুষের সৃষ্টি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও সুনিপুণ পরিকল্পনার অনন্য নিদর্শন।

মহান আল্লাহ সুরা মুমিনুনে মানব সন্তান সৃষ্টির ধাপগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা মুমিনুন ১২)

এরপর আল্লাহ বলেন, ‘তারপর আমি তাকে শুক্ররূপে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।’ (সুরা মুমিনুন ১৩) সংরক্ষিত আধার বলতে মাতৃগর্ভকে বোঝানো হয়েছে। এটি এমন এক নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে একটি ক্ষুদ্র শুক্রবিন্দু আল্লাহর নির্ধারিত ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। মানুষের চোখে এটি সামান্য হলেও আল্লাহর কাছে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনের সূচনা।

পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ মানবসন্তান সৃষ্টির আরও কয়েকটি ধাপ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারপর আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তে, অতঃপর মাংসপিণ্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, অতঃপর হাড্ডিকে আবৃত করি মাংস দিয়ে, অতঃপর তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে উন্নীত করি। কাজেই সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না মহান!’ (সুরা মুমিনুন ১৪)

আলোচ্য আয়াতগুলোতে মানবসৃষ্টির মোট সাতটি স্তরের বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রথম স্তর হলো মৃত্তিকার নির্যাস। দ্বিতীয় স্তর শুক্রবিন্দু। তৃতীয় স্তর জমাট রক্ত। চতুর্থ স্তর মাংসপিণ্ড। পঞ্চম স্তর অস্থির কাঠামো। ষষ্ঠ স্তর সেই অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করা। এরপর সপ্তম ও সর্বশেষ স্তরে আল্লাহ তাকে পূর্ণাঙ্গ মানবসত্তায় উন্নীত করেন।

মানবসৃষ্টির এই ধাপগুলো নিয়ে চিন্তা করলে মানুষের অহংকার দূর হয়ে যায়। যে মানুষ আজ শক্তি, জ্ঞান কিংবা সম্পদ নিয়ে গর্ব করে, তার সূচনা ছিল একটি অতি ক্ষুদ্র শুক্রবিন্দু থেকে। আবার সেই সৃষ্টির প্রতিটি স্তরই মহান আল্লাহর নির্ভুল পরিকল্পনা ও সীমাহীন ক্ষমতার সাক্ষ্য বহন করে।