মানুষের চারপাশে শয়তানের উপস্থিতি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তান। শয়তান দৃশ্যমান নয়। কিন্তু তার আঘাত সবচেয়ে গভীর। সে মানুষের সম্পদ কেড়ে নিতে চায় না। সে চায় মানুষের ইমান নষ্ট হোক। আল্লাহর আনুগত্য থেকে মানুষ বিচ্যুত হোক। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, শয়তান চায় মানুষ যেন তার প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।

হজরত আদম (আ.)-কে সেজদা করার নির্দেশ অমান্য করার কারণে ইবলিস মহান আল্লাহর দরবার থেকে বিতাড়িত হয়। অহংকার ও বিদ্বেষে অন্ধ হয়ে আল্লাহকে বলে, ‘যেহেতু তার কারণেই (পথ থেকে) আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছ, কাজেই আমি অবশ্যই তোমার সরল পথে মানুষদের জন্য ওঁৎ পেতে থাকব।’ (সুরা আরাফ ১৬)

এটি ছিল মানবজাতির বিরুদ্ধে শয়তানের প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা। সে বুঝেছিল, মানুষ যদি আল্লাহর সরল পথে অটল থাকে, তাহলে তার কোনো উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই সে সেই পথেই ফাঁদ পেতে বসে থাকার অঙ্গীকার করল। অর্থাৎ মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্য করতে চাইবে, নেক আমল করতে চাইবে, সত্যকে গ্রহণ করতে চাইবে, তখনই সে নানা কুমন্ত্রণা, প্রবৃত্তির প্রলোভন ও সন্দেহ সৃষ্টি করে তাকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করবে।

পরবর্তী আয়াতে ইবলিস তার কৌশল আরও স্পষ্ট করে বলেছে, ‘তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ (সুরা আরাফ ১৭) এই আয়াত মানুষের জীবনের প্রতিটি দিককে ঘিরে শয়তানের অবিরাম ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরে। সামনে থেকে এসে সে ভবিষ্যৎ নিয়ে মিথ্যা আশা ও ভয় সৃষ্টি করে। পেছন থেকে এসে অতীতের পাপকে তুচ্ছ মনে করায় অথবা দুনিয়ার মোহে ডুবিয়ে রাখে। ডান দিক থেকে এসে নেক আমলের মধ্যে লোক দেখানো, অহংকার ও আত্মতুষ্টি সৃষ্টি করে। আর বাম দিক থেকে এসে প্রকাশ্য গুনাহ ও অশ্লীলতার দিকে আহ্বান জানায়। অর্থাৎ মানুষের চারপাশে এমনভাবে ঘিরে ধরে, যাতে সে আল্লাহর পথ থেকে সরে যায়।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, শয়তান বলেনি যে সে সবাইকে কাফের বানিয়ে ছাড়বে। বরং সে বলেছে, অধিকাংশ মানুষকে কৃতজ্ঞ পাবে না। কারণ অকৃতজ্ঞতা মানুষের ইমান ও আমলের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর। মানুষ যখন আল্লাহর অগণিত নেয়ামতকে ভুলে যায়, তখন ধীরে ধীরে তার অন্তর কঠিন হয়ে যায়। ইবাদতে আগ্রহ কমে যায়। গুনাহকে স্বাভাবিক মনে হয়। আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে নিজের প্রবৃত্তিকে অনুসরণ করতে শুরু করে। এভাবেই শয়তান তার উদ্দেশ্যে সফল হয়। মুমিনের কর্তব্য হলো, শয়তানের এই চিরন্তন শত্রুতাকে কখনো ভুলে না যাওয়া। প্রতিটি কাজে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা, কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং নিজের অন্তরকে সবসময় কৃতজ্ঞতায় সজীব রাখা।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত