হাঁটুর ব্যথা নারী-পুরুষের পরিচিত এক সমস্যা। বয়সজনিত হাড় ক্ষয়, খেলাধুলায় আঘাত কিংবা দীর্ঘদিনের বাতের কারণে অনেকেই ব্যথা কমাতে ‘নি প্যাড’ বা হাঁটু সাপোর্ট ব্যবহার করেন। এটা চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং হাঁটুকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল রেখে ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়ক চিকিৎসা- উপকরণ।
নি প্যাড হাঁটুর ওপর চাপ সমানভাবে বণ্টন করে, জয়েন্টকে অতিরিক্ত নড়াচড়া থেকে সুরক্ষা দেয়। হাঁটার সময় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, লিগামেন্টে আঘাত, মেনিস্কাস ইনজুরি, প্যাটেলোফেমোরাল পেইন সিনড্রোম এবং খেলাধুলাজনিত হাঁটুর চোটে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ভুল মাপের বা দীর্ঘ সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে
নি প্যাড পরলে উল্টো অস্বস্তি বা পেশির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে।
হাঁটু সাপোর্টের ধারণা নতুন নয়। প্রাচীন যুগে কাপড় বা চামড়ার ফিতা দিয়ে হাঁটু বেঁধে রাখার প্রচলন ছিল। আধুনিক ইলাস্টিক নি প্যাডের বিকাশ ঘটে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি। যখন অর্থোপেডিক চিকিৎসায় উন্নত সিনথেটিক উপকরণের ব্যবহার শুরু হয়। এর নির্দিষ্ট কোনো একক আবিষ্কারক নেই; বরং চিকিৎসাবিজ্ঞান, ক্রীড়া চিকিৎসা ও চিকিৎসা-উপকরণ নির্মাতাদের ধারাবাহিক গবেষণার ফলেই
নি প্যাডের উন্নয়ন হয়েছে। হাঁটুর ব্যথায় নি প্যাড উপকারী হলেও, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।