শিশুদের দাঁত কেন গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী

ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন।

আলোক হেলথকেয়ার লি. মিরপুর, ঢাকা

শিশুর মুখে প্রথম যে দাঁতগুলো ওঠে, সেগুলোকে দুধদাঁত বলে। অনেকেই মনে করেন, দুধদাঁত যেহেতু একসময় পড়ে যাবে, তাই এগুলোর যতœ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ধারণাটি ভুল। শিশুর খাবার চিবানো, স্পষ্টভাবে কথা বলা এবং স্থায়ী দাঁতের জন্য সঠিক জায়গা তৈরি করতে দুধদাঁতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দাঁতের অযতেœ ক্ষয়, ব্যথা বা সংক্রমণ দেখা দিতে পারে, যা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দুধদাঁত ওঠার পর থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সাধারণত ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সের মধ্যে বাচ্চাদের মুখে ২০টি দুধদাঁত ওঠে। এসব দাঁত ৬ বছর বয়স থেকে পড়া শুরু করে। যেহেতু এই দাঁতগুলো স্থায়ী না, তাই অনেক বাবা-মা মনে করেন বাচ্চার দুধদাঁতের তেমন প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু ভুল ধারণা। একটা শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতার পাশাপাশি দাঁতের সুস্থতাও জরুরি।

দুধদাঁত কেন গুরুত্বপূর্ণ

 শরীরের সুস্থতা ও পুষ্টি আসে খাবার থেকে। দাঁত ক্ষয় হয়ে যদি ব্যথা সৃষ্টি হয়, বাচ্চা ঠিকমতো খেতে চায় না ফলে দেখা দেয় পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব।  দাঁতে গর্ত তৈরি হলে চিবাতে অসুবিধা হয়, রুচি নষ্ট হয় এবং খাবার হজমের সমস্যা দেখা দেয়।  দুধদাঁত সঠিক উচ্চারণ ও শব্দ গঠনে সহায়তা করে। মুখে দাঁত অনুপস্থিত থাকলে উচ্চারণে অসুবিধা হয়।  মুখের হাড় বৃদ্ধিতে ও চোয়ালের স্বাভাবিক গঠন ঠিক রাখতে দুধদাঁতের ভূমিকা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে দাঁত পড়ে গেলে চোয়ালের সঠিক বৃদ্ধি নাও হতে পারে।  দুধদাঁত, স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা ধরে রাখে। সময়ের আগেই দুধদাঁত পড়ে যায় তাহলে স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকাভাবে ওঠে।   দাঁতে কালো দাগ পড়লে বা গর্ত তৈরি হলে আপনার শিশু হীনমন্যতায় ভোগে।  ঠিকমতো দাঁত পরিচর্যা না করার ফলে গর্ত হয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে।  অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং সেই সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নানাবিধ অসুখ সৃষ্টি করে।

কীভাবে যত্ন নেব

শিশুর দুধদাঁত সাময়িক হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্রাশ, সুষম খাদ্য ও সময়মতো দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ দাঁতের সুস্থতা নিশ্চিত করে  প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই পরিচর্যা করুন।  নিয়মিত দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।  ছোটবেলা থেকেই পুষ্টিকর খাবার দিন।   ছয় মাস পর পর দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত