আজতেকার উচ্চতায় ভয় ইংলিশদের

বিশ্বকাপের শেষ ১৬ পর্বের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো-ইংল্যান্ড। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ইংলিশরা। ৯ দেখায় থ্রি লায়ন্সদের জয় ৬টি, মেক্সিকো জিতেছে ২টি, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। শেষ চার দেখায় সবগুলো ম্যাচেই আধিপত্য ইংল্যান্ডের। জয়ের পাশাপাশি ১২টি গোল দিয়ে হজম করেছে মাত্র ১টি। বিশ্বকাপে একমাত্র লড়াইয়েও জিতেছে তারা। তবে ইতিহাস পাশে থাকলেও হ্যারি কেইনদের বড় চ্যালেঞ্জের নাম আজতেকা। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই স্টেডিয়াম। প্রতিযোগিতামূলক ৮৯ ম্যাচে মাত্র দুবার হেরেছে স্বাগতিকরা। জিতেছে ৭০টি, ড্র করেছে ১৭টি। বিশ্বকাপে এই মাঠে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত মেক্সিকো। নিজেদের মাঠে তারা যে কতটা ভয়ংকর, সেই বার্তাই দিচ্ছে পরিসংখ্যান।

বর্তমান ফর্মেও অপ্রতিরোধ্য মেক্সিকো। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৮ বার বল জড়ালেও নিজেরা কোনো গোল হজম করেনি। টানা ৩ ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ ওঠে তারা। সেখানে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারায়। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেও ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে চাপে ছিল। রাউন্ড অব ৩২-এ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ১৬-তে এসেছে দলটি। মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছেও স্বস্তি পায়নি ইংল্যান্ড। তাদের টিম হোটেলের বাইরে শত শত সমর্থক জড়ো হয়ে দুয়োধ্বনি দেয় ও কেইনদের দেখে ‘মেক্সিকো, মেক্সিকো’ সেøাগান দিতে থাকে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও প্রতিপক্ষের ঘুম নষ্ট করার ঘটনা ঘটিয়েছিলেন স্বাগতিক সমর্থকরা। তবে এসব নিয়ে ভাবছেন না ডেকলান রাইস। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অনেকটা অ্যাওয়ে ম্যাচের মতোই হবে। মেক্সিকো পুরো টুর্নামেন্টে ঘরের মাঠের সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু আমাদের কাজ হলো সেখানে গিয়ে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।’ আজতেকায় মেক্সিকোর ইতিহাস নিয়েও চিন্তিত নন ডেকলান, ‘আমরা কোথায় খেলছি, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমাদের কাছে এটি আরেকটি স্টেডিয়াম মাত্র। আমরা সেখানে যাচ্ছি শুধু আমাদের কাজটা করতে।’

দর্শক চাপের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে লড়তে হবে প্রকৃতির সঙ্গেও। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মেক্সিকো সিটিতে বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম। এতে খেলোয়াড়দের সহ্যশক্তি, গতি ও শারীরিক সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই ইংল্যান্ড দলের মেডিকেল স্টাফ উচ্চতার প্রভাব কমাতে বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনা করেছেন। বিকল্প হিসেবে খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।