যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্য, চুরি-ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের সঙ্গে সখ্য থাকার কারণে বহু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আবুল কালামের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তিনি ও তার সহযোগীরা আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকরা তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আবুল কালাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের মৃত-আব্দুল মুজিতের ছেলে।
জান যায়, তার নেতৃত্বাধীন চক্রের সদস্য হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মধ্যে রয়েছেন মফিজুল ইসলাম, আলাল উদ্দিন, কাশেম শিকদার, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান শিকদার, ইয়াসিন শিকদার এবং কুন্দিপুর গ্রামের নবাব। জানা গেছে, মফিজুল ইসলাম বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নবাব বিদেশে থাকাকালীন মারা যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবুল কালাম ও তার সহযোগীদের হাতে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুর রশিদ, কৃষক চাঁদ মিয়া, ভ্যানচালক মক্কা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যসহ আরও অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশের নামে কৃষক চাঁদ মিয়ার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এর আগেও ২০১৩ সালে গভীর রাতে অস্ত্রধারী কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর দাবি, আবুল কালাম বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। আগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের ভাষ্য, তিনি এলাকায় ফিরে আসার পর চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার প্রবণতা বেড়েছে।
স্থানীয় রেজাউলসহ আরও কয়েকজন বলেন, বিগত দিনে আবুল কালাম এলাকায় চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, সালিশ বাণিজ্যের নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে টু-শব্দটি করার সাহস কারো নেই। পান থেকে চুন খসলেই রাতে তার বাড়িতে ডাকাতদলের সদস্য পাঠিয়ে ডাকাতি করিয়েছে। যেনো গোটা এলাকাকে সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করবো তাকে দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
সূত্র বলছে, বাহিনী প্রধান কালাম তার সন্ত্রাসীদের নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে এখন আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছেন। এসব সন্ত্রাসীদের অনেকেই অস্ত্রধারী। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় ফিরে পুরোপুরি বেপরোয়া উঠেছে বাহিনী প্রধান কালাম। অপরাধের পুরোনো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে রাতে এলাকায় মহড়া দিয়ে আধিপত্য চালানোর চেষ্টা করছে। কালামের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমনে পুলিশের কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। গত ১৫ মে ২০২৫ সালে কালামের এক সহযোগী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ইমরান শিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুর্ধর্ষ এ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে পর স্বস্তি নেমে আসে এলাকায়। কালাম এলাকায় ফিরে আসায় সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে আছেন। পুলিশের সঙ্গে আবুল কালামের সখ্যতা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের বিশেষ অভিযানের আগাম খবর পেয়ে যান আবুল কালাম এবং পরে আত্মগোপনে চলে যায়। পুলিশের অভিযান শেষ হলে তিনি আবার এলাকায় ফিরে আসে। ফলে ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু করা এই অভিযানের ফলাফল আশানুরূপ হচ্ছে না। এদিকে মূল হোতা বাহিনী প্রধান আবুল কালাম গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বীরদর্পে কালাম অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাহিদ হোসেন বলেন, কালামকে না ধরে পুলিশ চুনোপুঁটি অন্যান্যদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে, যেটা এক ধরনের আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়।
ঝিকরগাছার থানার এসআই (তদন্তকারী) রোকনুজ্জামান এই প্রতিবেদককে জানান, নাভারণ পুরাতন বাজারে কিছু বিএনপির নেতা আছে তারা দালাল। এজন্য কালাম-আলালদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, অভিযোগকারীকে থানায় এসে আমার সামনে অভিযোগ দিতে হবে। তা নাহলে আমরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের আটক করতে পারবো না।