আবার কাঁদলেন নেইমার, বিশ্বকাপ অধরাই রয়ে গেলো

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। চার বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। এবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সান্তোসের এই নম্বর ১০ মহাতারকাকে আবারও কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছাড়তে হলো। রাফিনহাসহ সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও এই পরাজয় নেইমারের ক্যারিয়ারে এক ট্রাজিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে।

থিয়াগো সিলভার পর নেইমার হলেন মাত্র দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, যিনি দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ (২০১৪, ২০১৮, २०२२ এবং ২০২৬) খেলার পরও একটিও শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেননি। চারবার বিশ্বমঞ্চে লড়াই করেও চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার এই চিরকালের আক্ষেপ নিয়েই তাকে বিদায় নিতে হলো।

শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভাঙলেও এই ম্যাচে গোল করে ফুটবল সম্রাট পেলের এক অনন্য রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন নেইমার। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে পেলে এবং নেইমারই একমাত্র খেলোয়াড়, যাঁরা চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন।

চলমান বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড এবং নরওয়ে—উভয় ম্যাচেই নেইমারকে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পরিবর্তে তিনি মাঠে আসেন। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন নরওয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, তখন অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা মোড় নেয় এভাবে:

রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের সাথে তর্কে জড়িয়ে একটি হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার।

সফল পেনাল্টি কিক থেকে গোল করে ব্রাজিলের হয়ে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি।

তবে নেইমারের এই শেষ মুহূর্তের গোলও সেলেসাওদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া রুখতে পারেনি।

পেলে, রোনালদো নাজারিও, কাফু বা ডিভাইন সান্তোসের মতো কিংবদন্তিরা চারবার বিশ্বকাপ খেলে প্রত্যেকেই অন্তত একবার চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেয়েছিলেন। কিন্তু নেইমারের ক্ষেত্রে ফুটবলের গল্পটা শুধুই আক্ষেপ আর খেরোখাতার আজীবন কান্না হয়ে রয়ে গেল। নিউ জার্সির মাঠে ভাইকিংদের ইতিহাস গড়ার দিনে চোখের জলেই বিশ্বকাপ মঞ্চকে চিরতরে বিদায় জানাতে হলো ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়কে।