ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিলো নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে শেষ ১৬ তে ৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ভাইকিংরা—এটি কোনো রূপকথা নয়, বরং মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বের এক চরম বাস্তব চিত্র! ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে অন্যতম ফেভারিট সেলেসাওদের স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে নরওয়ে।
খেলার প্রথমার্ধ ছিল উত্তেজনা ও নাটকে ঠাসা। ব্রাজিল প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি পেয়েও তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে নরওয়ের একটি গোল বাতিল হয়ে গেলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়। ম্যাচের ৬৬ শতাংশ বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্রাজিলিয়ানদের ওপর অনবরত চাপ ধরে রাখে নরওয়ে।
ম্যাচের দ্বিতীয় বাটন বদলানোর কৌশল হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল রক্ষণাত্মক অবস্থান নেয় এবং ৬৮ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পরিবর্তে মাঠে নামায় মহাতারকা নেইমারকে। তবে প্রচণ্ড আর্দ্রতার মাঝে খেলা এই ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ছিল সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। ৭৯ মিনিটে সতীর্থ শিয়েল্ডেরুপের দারুণ এক ক্রস থেকে বাতাসে ভেসে বুলেট হেডারে জাল কাঁপান হালান্ড, ১-০ তে এগিয়ে যায় নরওয়ে। এই গোলের ধাক্কা সামলে ব্রাজিল যখন সমতায় ফেরার জন্য খেই হারাচ্ছিল, ঠিক তখনই ৮৯ মিনিটে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন। শিয়েল্ডেরুপের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ালো ৭-এ, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপ্পে, মেসির কাতারে চলে এলেন।।
৭ মিনিট ইনজুরি টাইমের শেষের দিকে পেনাল্টি থেকে নেইমারের গোল আফসোস দ্বিগুণ করে ব্রাজিলিয়ানদের, কারণ ব্রুনো গিমারেস খেলার ১৩ মিনিটে এরকম একটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় এবং মাঠে ও গ্যালারিতে শুরু হয় ভাইকিংদের রো রো উদযাপন।
আবার কাঁদলেন নেইমার, বিশ্বকাপ অধরাই রয়ে গেলো