মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসকদের কক্ষে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল প্রোমোশন অফিসার (এমপিও) বা প্রতিনিধিরা প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় রোগীদের সেবা গ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করছেন। এ সময় বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা রোগীদের অপেক্ষায় রেখে চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করছেন। এতে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শাহিদা আক্তার বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের আগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।’
আরেক রোগী সেলিনা খাতুন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পায়ে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এখনও চিকিৎসকের দেখা পাইনি। ওষুধ কোম্পানির লোকজন প্রায় শতাধিক হবে। তারা একজনের পর একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলছেন। আমরা কার কাছে অভিযোগ দেব? আপনারা সাংবাদিকরা এসেছেন, আমাদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরুন। যাতে ভবিষ্যতে কোনো কোম্পানির প্রতিনিধিদের কারণে আমাদের এমন ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।’
রোগীর স্বজন শাহীন মাদবর বলেন, ‘নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ রোগী দেখার কাজ শেষ হওয়ার পর তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলুক। এতে তাদেরও কাজ হবে, আবার রোগীরাও নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা পাবেন।’
আরেক রোগী মালেক শিকদার বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সজিব আহমেদ বলেন, সরকারি হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত করে কোনোভাবেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, বহির্বিভাগে রোগী দেখার সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে একাধিক ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল প্রোমোশন অফিসার বলেন, সপ্তাহে দুই দিন—সোমবার ও বৃহস্পতিবার—দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাই ওই সময়েই তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা আরও বলেন, দুপুর ২টার পর অনেক চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। তাই রোগী থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কথা বলতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সাবরিনা সরকার বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এ সময় রোগীর চাপ কিছুটা কমে যায়। তবে রোগীদের অপেক্ষা করিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের কাছে রোগীরাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই বিষয়টি বিবেচনা করে সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে। রোগীদের অপেক্ষায় রেখে কোনো মেডিকেল প্রোমোশন অফিসার চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন না।’