সংবাদ যাচাইয়ে কোরআনের বার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ, ছবি ও ভিডিও আমাদের সামনে আসে। এর অনেকগুলো সত্য হলেও কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত কিংবা সম্পূর্ণ মিথ্যা। যাচাই না করেই এসব তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে কখনো কখনো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ইসলাম মানুষের সম্মান, সত্য ও ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই কোনো সংবাদ গ্রহণ বা প্রচারের আগে সেটার সত্যতা যাচাই করার তাগিদ দিয়েছে কোরআন।

পবিত্র কোরআন তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি নির্ধারণ করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো ফাসেক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা ভালোভাবে যাচাই করে নাও। অন্যথায় অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেলবে, পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হবে।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত ৬)

এই আয়াত একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হলেও এর শিক্ষা সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য। কোনো তথ্যের উৎস, সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই না করে তা বিশ্বাস বা প্রচার করা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং সত্য উদঘাটনের পরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংবাদ প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে কোরআন।

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও যাচাইহীন তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে, তাই বলে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম) আজকের ডিজিটাল যুগে একটি ভুয়া খবর কয়েক মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেড়ে গেছে।

ইসলাম আরও শিক্ষা দেয়, কোনো ব্যক্তি যদি এমন একটি খারাপ কাজের সূচনা করে, যার অনুসরণ অন্যরা করে, তাহলে সে নিজের গুনাহের পাশাপাশি অনুসারীদের গুনাহের অংশও বহন করবে। (সহিহ মুসলিম) তাই যাচাই না করে ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত ভুল নয়, এটি চলমান গুনাহের কারণও হতে পারে।

একজন সচেতন মুমিনের উচিত, কোনো সংবাদ শেয়ার করার আগে তার উৎস যাচাই করা, সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করা এবং মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহির কথা স্মরণ রাখা। সত্য প্রতিষ্ঠা, মানুষের সম্মান রক্ষা এবং সমাজকে বিভ্রান্তিমুক্ত রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাই সংবাদ যাচাই করা শুধু আধুনিক তথ্য সচেতনতার অংশ নয়, এটি কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত একটি মৌলিক নৈতিক দায়িত্ব।

লেখক : ইসলামি গবেষক