কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত ১০

টানা দুদিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ আটজন মারা গেছে। এ ছাড়া কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় পাহাড়ধসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার রাত ১টার পর থেকে সোমবার ভোর ৪টার মধ্যে উখিয়া ও কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। আর পেকুয়ায় গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু হয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন সেন্টার এবং জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রবিবার রাত সোয়া ১টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে একটি রোহিঙ্গা বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে পড়ে। এতে পরিবারের পাঁচ সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয়রা দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং পুত্র মোহাম্মদ আনাসসহ (৪) তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘মাটির নিচে চাপা পড়া তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’ এদিকে রবিবার রাত পৌনে ২টার দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ের মাটি চাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ওই ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

অন্যদিকে রবিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন একজন। তারা হলেন আব্দুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩) এবং আব্দুর রাজ্জাকের ভাই মোহাম্মদ রশিদের দুই শিশুপুত্র মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘খবর পেয়ে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। এ পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উখিয়া ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয় স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ ছাড়া সোমবার ভোর ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপায় আলী আকবর (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুজন। স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের তিনজন মাটিচাপা পড়ে। স্থানীয়রা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। তা ছাড়া পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউপির ৩নং ওয়ার্ডে আলম ঝিরির খলিফা মুড়া এলাকায় পাহাড়ধসে মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে একই এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে।

কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত : কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাব এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন থেমে থেমে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এতে পর্যটন শহরসহ বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।