ম্যারাডোনার পাশে বেলিংহাম

ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অতিমানবীয় একক গোল আর ‘হ্যান্ড অব গড’-এর জোড়া আঘাতে ইংলিশ ফুটবলের বুকে যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তার বয়স এখন ঠিক ৪০ বছর। চার দশক ধরে ফুটবল মানচিত্রের মেক্সিকান এই আঙিনা, আজতেকা থ্রি-লায়ন্সদের জন্য ছিল এক বুকভাঙা কান্নার ইতিহাস। তবে সময়ের চাকা ঘুরে উত্তর আমেরিকার আকাশে এবার যেন এক একুশ শতকের ইংলিশ রাজপুত্রের হাত ধরে লেখা হলো মধুর প্রতিশোধের আখ্যান।

মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে স্তব্ধ করে দেওয়ার রাতে ইতিহাসকে নিজের পায়ে লুটিয়েছেন জুড বেলিংহাম। প্রথমার্ধে মাত্র ৯৭ সেকেন্ডের এক টর্নেডো ঝড়ে চোখধাঁধানো জোড়া গোল করে তিনি ছুঁয়েছেন খোদ ম্যারাডোনাকে। ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত জোড়া গোলের পর, এই আজতেকায় বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জোড়া গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়লেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

শুধু আক্রমণেই নয়, ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের নেতৃত্ব আর মানসিক দৃঢ়তার এক জীবন্ত দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বেলিংহাম। এই ম্যাচে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জেতা এই তারকা ২০২২ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পের দ্রুততম জোড়া গোলের গতিময় স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছেন। ম্যাচ শেষে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেরা রাতটি উদযাপন করতে গিয়ে ভক্তদের উদ্দেশে কিছুটা মজার ছলেই বেলিংহাম বলেন, ‘আপনারা সবাই নিজেদের বসদের মেসেজ পাঠিয়ে দিন যে কাল অফিসে যাচ্ছেন না, ব্যস এতটুকুই! আমি নিজেও সাত বছর বয়স থেকে ইংল্যান্ডের অন্ধ ভক্ত। ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে আমি খেলা দেখি। সাবেক অনেক খেলোয়াড় এখন টিভিতে বসে বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু এই ধরনের কঠিন রাতে ওনারাও অতীতে ভুগেছেন। এই দলের অংশ হতে পারা, দেশের মানুষকে এমন একটা রাত উপহার দিতে পারা আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।’

চলতি বিশ্বকাপে ৪টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছেন বেলিংহাম। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের দিনে অধিনায়ক হ্যারি কেইনও গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৪, যা তাকে সর্বকালের সেরা পেলের ওপরে জায়গা করে দিয়েছে। পুরনো ইতিহাস যেখানে ইংলিশদের শুধু হতাশা উপহার দিয়েছিল, সেখানে বেলিংহাম ও কেইনের এই নতুন যুগ থ্রি-লায়ন্সদের ড্রেসিংরুমে এনে দিয়েছে এক অনন্য আত্মবিশ্বাস। মেক্সিকোর চেনা জায়গায় তাদের স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যারাডোনার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলা বেলিংহামের এই অবিস্মরণীয় অধ্যায় ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।