ওয়ানডেতেও কাঠগড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিং

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

বিশ্বকাপ ডামাডোলের মধ্যে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় মাত্র আড়াই দিনে হারের পর ওয়ানডেতেও বিপর্যস্ত সফরকারীরা। হারারেতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে গতকাল ২৫ রানে হারেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। অথচ নাহিদ রানার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ১৪১ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমেও বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ। একমাত্র নুরুল হাসান সোহান ৩০ রানের গণ্ডি পার করেন। ১১৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

এই হারের জন্য ব্যাটারদের কাঠগড়ায় তোলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, ‘আমাদের ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্সে হতাশ। প্রথম ১০ ওভারে যদি আমরা একটি ভালো জুটি গড়তে পারতাম, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি।’

জিম্বাবুয়ে সফরের আগে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল বাংলাদেশ দল। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা চারটি সিরিজ জেতেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে ৩০৯ দিন পর এই সংস্করণে খেলতে নামে জিম্বাবুয়ে। অথচ তাদের কাছে টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজও হার দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশের।

তবে জয়ের সব আয়োজন সেরে রেখেছিলেন নাহিদ রানা। পেসের আগুনে স্বাগতিকদের ব্যাটিং বিভাগ ধসিয়ে দেন তিনি। এ ডানহাতি গতিতারকা ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে প্রথমবারের মতো ২১ রানে ৬ উইকেট নেন। এটা ওয়ানডেতে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের কীর্তিও। ওয়ানডেতে মাত্র ১৪ ম্যাচে এটি তার তৃতীয় ফাইফার। বিশ্বে এর থেকে কম ম্যাচ খেলে এই কীর্তি আছে কেবল  মোস্তাফিজুর রহমানের (৯ ম্যাচ)। নাহিদকে প্রশংসায় ভাসিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমরা দারুণ বোলিং করেছি, বিশেষ করে নাহিদ। সে ৬ উইকেট নিয়েছে, যা ছিল অসাধারণ। গত কয়েকটি সিরিজে যেভাবে বোলিং করছে, সেটি সত্যিই অসাধারণ। আমরা আরও ভালো করতে পারি, তবে সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করতে হবে।’

যদিও টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারেন যোগ করেন ৩৬ রান। এ জুটি অবশ্য ভাঙতে পারত দলীয় ১৪ রানেই। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাসকিনের বলে বেনেটের সহজ ক্যাচ ছাড়েন রিশাদ। সুযোগ পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি জিম্বাবুয়ের এ ব্যাটার। ব্যক্তিগত ১৭ রান করে তাসকিনেরই শিকারে পরিণত হন তিনি। এর ঠিক দুই বল আগে রান আউট হন কারেন (১৮)। অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিনকে রানের খাতা খুলতে দেননি তাসকিন। এরপর দৃশ্যপটে নাহিদ। ফেরান সিকান্দার রাজা (১), ওয়েসলি মাধেভেরে (০), ক্লাইভ মাডান্ডে (২), ইনোসেন্ট কাইয়া (২৬) ও ব্র্যাড ইভান্সকে (৩)। ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে প্রতিরোধ গড়ে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন নিউম্যান ন্যামহুরি। ২১ রানে থাকা এনগারাভাকে বোল্ড করে এই জুটিও ভাঙেন নাহিদ। শেষ ব্যাটার হিসেবে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে মিরাজের শিকার হন ন্যামহুরি।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। তানজিদ ৮, সৌম্য সরকার ৬ ও নাজমুল হোসেন করেন ৩ রান। ১৭ রানে এই তিনজনকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন সফরকারীরা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন তাওহিদ হৃদয় (২৫) ও নুরুল হাসান সোহান। এ জুটি ভাঙলে মোসাদ্দেক হোসেন (৩) ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ (১০) দায়িত্ব নিতে পারেননি। সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রানে আউট হলে জয়ের শেষ সম্ভাবনাটাও শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদরা শুধু জয়ের ব্যবধান কমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত